

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক এবং বোকা জুনিয়র্সের কিংবদন্তি মিডফিল্ডার আন্তোনিও উবালদো রাট্টিন আর নেই।
শনিবার (১১ জুলাই) ৮৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। তার মৃত্যুতে আর্জেন্টিনার ফুটবল অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক।
১৯৬০-এর দশকে বোকা জুনিয়র্সের সোনালি যুগের অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন রাট্টিন। একই সময়ে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের মাঝমাঠেও ছিলেন নির্ভরতার প্রতীক। তিনি ১৯৬২ সালের চিলি বিশ্বকাপ এবং ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। বিশেষ করে ১৯৬৬ বিশ্বকাপে তার বিতর্কিত বহিষ্কারের ঘটনা আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়।
'এল রাতা' নামে পরিচিত রাট্টিন ছিলেন লড়াকু মানসিকতা, দৃঢ় নেতৃত্ব এবং অসাধারণ ব্যক্তিত্বের জন্য সমাদৃত। রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে বোকা জুনিয়র্সে তিনি এমন এক মানদণ্ড স্থাপন করেন, যা পরবর্তী সময়ে রুবেন সুয়ে, ব্লাস আরমান্দো জিউন্তা ও মরিসিও সেরনার মতো কিংবদন্তিরা অনুসরণ করেন।
পুরো পেশাদার ক্যারিয়ারে তিনি খেলেছেন মাত্র দুটি দলের হয়ে—বোকা জুনিয়র্স ও আর্জেন্টিনা জাতীয় দল। বোকার যুব একাডেমি থেকে উঠে এসে মাত্র ১৯ বছর বয়সে সিনিয়র দলে অভিষেক হয় তার। এরপর টানা ১৫ বছর নীল-হলুদ জার্সিতেই মাঠ মাতিয়েছেন এই কিংবদন্তি।
বোকা জুনিয়র্সের হয়ে ৩৮২টি ম্যাচ খেলেছেন রাট্টিন এবং প্রতিটি ম্যাচেই ছিলেন শুরুর একাদশে। ক্লাবটির হয়ে জিতেছেন ১৯৬২, ১৯৬৪ ও ১৯৬৫ সালের আর্জেন্টাইন লিগ শিরোপা এবং ১৯৬৯ সালের কোপা আর্জেন্টিনা।
ক্লাব পর্যায়ে ধারাবাহিক সাফল্যের সুবাদে জাতীয় দলেও হয়ে ওঠেন অপরিহার্য সদস্য। ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৯ সালের মধ্যে আর্জেন্টিনার হয়ে ২১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন তিনি। এর মধ্যে পাঁচটি ছিল বিশ্বকাপে এবং তিনটি কোপা আমেরিকায়। জাতীয় দলের জার্সিতে একটি গোলও করেছিলেন এই কিংবদন্তি মিডফিল্ডার।
রাট্টিনের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত আসে ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে। জার্মান রেফারি রুডলফ ক্রাইটলাইনের সিদ্ধান্তে তাকে মাঠ ছাড়তে বলা হয়। সে সময় ফুটবলে লাল ও হলুদ কার্ডের প্রচলন না থাকায় সিদ্ধান্ত মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান রাট্টিন এবং প্রায় ১০ মিনিট মাঠে অবস্থান করেন।
মাঠ ছাড়ার সময় কর্নার ফ্ল্যাগে থাকা ব্রিটিশ পতাকা স্পর্শ করে প্রতিবাদ জানান তিনি। পরে রাজকীয় অতিথিদের জন্য সংরক্ষিত লাল কার্পেটে গিয়ে বসে পড়েন। তার এই ঘটনাটি বিশ্ব ফুটবলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেক ফুটবল ইতিহাসবিদের মতে, ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ থেকে লাল ও হলুদ কার্ড চালুর পেছনে ১৯৬৬ সালের সেই বিতর্কিত ম্যাচের ঘটনাও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল।
মাঠে নেতৃত্ব, সাহসিকতা ও নিবেদিত পারফরম্যান্সের জন্য আন্তোনিও রাট্টিন আজও আর্জেন্টিনা ও বোকা জুনিয়র্সের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অধিনায়ক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
