বুধবার
১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশে ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচারের নেপথ্যে নায়ক ইয়াসের-তাবিথ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

দেশের ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষা আর অনিশ্চয়তার অবসান ঘটছে। আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচার করবে দেশের তিনটি চ্যানেল। সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বিটিভির পাশাপাশি দেশের একমাত্র স্পোর্টস চ্যানেল ‘টি স্পোর্টস’ এবং ‘সময় টেলিভিশন’ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে খেলাগুলো দেখানো হবে। এ ছাড়াও বেশ কয়েকটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও সরাসরি খেলা উপভোগের সুযোগ পাবেন ফুটবলভক্তরা।

এই সম্প্রচার অধিকার নিশ্চিত করার পেছনে বড়সড় ভূমিকায় ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও আলোচনার মাধ্যমে তিনি এই সম্প্রচার সংকট নিরসনে উদ্যোগী হন। তাবিথ আউয়াল জানান, এটি বাফুফের কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ ছিল না; বরং ফিফাই তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, যাতে বিটিভিসহ স্থানীয় অংশীজনের সঙ্গে একটি কার্যকর সমন্বয় করা যায়। তাবিথ আউয়াল নিজের এই সক্রিয়তার কারণ হিসেবে বলেন, বাংলাদেশে বিশ্বকাপ সম্প্রচার না হলে তা শুধু ফুটবলভক্তদের জন্যই নয়, সাধারণ মানুষের জন্যও গভীর হতাশার কারণ হতো।

বাংলাদেশে ফুটবলের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার কথাও উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ফুটবলাররা ফের তরুণদের কাছে অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছেন। এমন সময়ে দেশে বিশ্বকাপ সম্প্রচার না হলে ফুটবলের এই অগ্রযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারত। কারণ প্রতিটি বিশ্বকাপ নতুন করে ফুটবল উন্মাদনা সৃষ্টি করে এবং লাখো তরুণকে এই খেলার প্রতি আকৃষ্ট করে।

তবে এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। কয়েক সপ্তাহ আগেও সম্প্রচার নিয়ে দেশে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্প্রিংবক্স পিটিই লিমিটেড ফিফার কাছ থেকে বাংলাদেশের মিডিয়া স্বত্ব কিনলেও, স্থানীয় বাজারে তা বিক্রি করতে ব্যর্থ হয়ে চুক্তি বাতিল করে। ফলে বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও বাংলাদেশ কার্যত কোনো সম্প্রচারক ছাড়াই পড়ে ছিল।

এই পরিস্থিতির পেছনে ছিল একাধিক কারণ। স্বত্বের আকাশচুম্বী মূল্য, সীমিত বাণিজ্যিক সম্ভাবনা এবং ম্যাচের সময়সূচি—সব মিলিয়ে স্থানীয় সম্প্রচারকারীদের কাছে বিষয়টি খুব একটা আকর্ষণীয় ছিল না। ফলে দেশের প্রায় সব টেলিভিশন চ্যানেলই শুরুতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। একই সময়ে বিভিন্ন মহল থেকে অত্যধিক মূল্যের প্রস্তাব ও নানামুখী চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এমন জটিল অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। বিপুল অর্থের খেলা হওয়ায় রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বিটিভি কিংবা কোনো বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল এই চুক্তিতে জড়াবে কি না, তা নিয়ে ব্যাপক সংশয় দেখা দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় সেই জট কাটতে শুরু করে।

অতিরিক্ত মূল্য দাবি এবং তথাকথিত ‘ষড়যন্ত্রের’ প্রসঙ্গে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘যারা বিভিন্ন মাধ্যমে উচ্চমূল্যের প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল, তারা কখনো প্রকাশ্যে নিজেদের পরিচয় দেয়নি।’ তবে প্রায় ২০০ কোটি টাকার একটি প্রস্তাবের বিষয়টি বিভিন্ন মহলে আলোচিত হয়েছিল এবং সরকারও সে সম্পর্কে অবগত ছিল। প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী জানান, শুরু থেকেই সরকারের লক্ষ্য ছিল বিটিভিকে সরাসরি আর্থিক বোঝা বহন করতে না দেওয়া। তার দাবি, চুক্তির প্রায় ৯৬ শতাংশ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বিজ্ঞাপনসহ বিভিন্ন উৎস থেকে প্রয়োজনীয় অর্থের প্রায় পুরোটা আদায় করা সম্ভব হবে। সামান্য একটি অংশ এখনো বাকি থাকলেও সেটি মোট ব্যয়ের তুলনায় খুবই নগণ্য। এমন সংকট কাটাতে মূলত তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের নেপথ্যের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন