মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ভারতীয় গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মুখ খুললেন ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম আপডেট : ০৯ জুন ২০২৬, ০৮:৪৫ পিএম
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।। ফাইল ছবি
expand
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।। ফাইল ছবি

রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা অতীতে একাধিকবার ইঙ্গিত দিলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই পথ বেছে নেওয়ার সুযোগ দেখছেন না ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার ভাষায়, দেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জনগণের প্রতি নিজের দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।

ভারতের একটি বাংলা সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগ সভানেত্র শেখ হাসিনা বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তার আর কোনো প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা নেই। বরং দীর্ঘদিন ধরেই তিনি দলীয় নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মকে সামনে আনার পক্ষে কথা বলে আসছেন। তবে বর্তমান বাস্তবতায় অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে মনে করেন তিনি।

২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে এখন গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক অধিকার সংকটের মুখে রয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে রাজনৈতিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, তার লক্ষ্য ক্ষমতায় ফেরা নয়; বরং দেশের জনগণের প্রতি যে দায়বদ্ধতা রয়েছে, সেটি পালন করা। জনগণের নিরাপত্তা, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরই তিনি অবসরের বিষয়টি বিবেচনা করবেন।

দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা পারিবারিক সংগঠন নয়। দলীয় কাউন্সিল ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে। যোগ্যতা, ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং আদর্শিক অবস্থান—এসবই নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হবে বলে জানান তিনি।

একই সঙ্গে প্রবীণ ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রবীণ নেতাদের অভিজ্ঞতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কঠিন সময়ে দলের পক্ষে দাঁড়িয়ে থাকা তরুণ নেতারাই ভবিষ্যতে সংগঠনের চালিকাশক্তি হয়ে উঠবেন।

দলের পুনর্গঠন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা জানান, অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হলে নতুন কাউন্সিলের মাধ্যমে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা হবে। সেই প্রক্রিয়ায় নতুন প্রজন্মের দেশপ্রেমিক ও আদর্শনিষ্ঠ নেতাদের সামনে নিয়ে আসার পরিকল্পনাও রয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন