

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ফিফা কোনো বাণিজ্যিক মুনাফাভোগী প্রতিষ্ঠান নয়, বরং একটি অলাভজনক ক্রীড়া সংস্থা। ফিফার মূল আদর্শ হলো, বিশ্বকাপ আয়োজন থেকে টেলিভিশন স্বত্ব, স্পনসরশিপ ও টিকিট বিক্রির মাধ্যমে যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় হয়, তা শুধু অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয় না।
ফিফা বিশ্বজুড়ে ফুটবলের সমতা ও কাঠামোগত উন্নয়নের জন্য এই আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ তাদের অন্তর্ভুক্ত ২১১টি সদস্য দেশের মাঝে বণ্টন করে থাকে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ফিফার একটি স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ সদস্য হওয়ায় নিয়মতান্ত্রিকভাবেই এই বৈশ্বিক ফুটবল তহবিলের অংশীদার হয়।
এই অর্থ মূলত প্রদান করা হয় ফিফার বিশেষ ফ্ল্যাগশিপ প্রজেক্ট 'FIFA Forward' (বর্তমানে সংস্করণ ৩.০)-এর অধীনে।
ফিফার অফিশিয়াল ফিন্যান্সিয়াল গাইডলাইন ও অ্যানুয়াল রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ চক্রের মধ্যে প্রতিটি সদস্য দেশের জন্য মোট ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯৫ কোটি টাকার বেশি) পর্যন্ত ডেভেলেপমেন্ট ফান্ড বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এই ফান্ডের মধ্যে প্রতি বছর ১.২৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হয় ফুটবল বোর্ডের দৈনন্দিন প্রশাসনিক ও পরিচালন ব্যয় নির্বাহের জন্য। এছাড়া বাকি ৩ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হয় দীর্ঘমেয়াদী সুনির্দিষ্ট ফুটবল প্রজেক্টের জন্য, যেমন-খেলোয়াড়দের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণ সুবিধা, যুব একাডেমি তৈরি, কিংবা দেশের তৃণমূল ফুটবল ও নারী ফুটবলের মানোন্নয়ন।
টাকা পাওয়ার এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত কঠোর ও স্বচ্ছ নিয়মের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়।ফিফা নির্ধারিত শর্ত পূরণ ও প্রকল্প অনুমোদনের পর সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের কাছে ধাপে ধাপে অর্থ ছাড় করে।।
বাফুফেকে প্রথমে তাদের সুনির্দিষ্ট ফুটবল প্রজেক্টের পরিকল্পনা এবং বাজেট ফিফার ডেভেলেপমেন্ট কমিটির কাছে জমা দিতে হয়। পরিচালন ব্যয়ের অর্থ নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের ভিত্তিতে কিস্তিতে দেওয়া হয়।
এছাড়া প্রতি বছর স্বাধীন আন্তর্জাতিক অডিটরদের মাধ্যমে এই ফান্ডের পুঙ্খানুপুঙ্খ অডিট করা হয়, যাতে অর্থের কোনো অপব্যবহার না হয়। সুতরাং, বাংলাদেশ মূল মাঠে না খেললেও, বৈশ্বিক ফুটবলের কাঠামোগত অংশীদার হিসেবে এই উন্নয়ন তহবিল পাওয়ার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বৈধ এবং নিয়মতান্ত্রিক অধিকার রাখে।
