

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নরওয়ের কাছে হেরে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর আলোচনায় উঠে এসেছে সেই মিস পেনাল্টি। প্রথমার্ধে পেনাল্টি পেয়েছিল ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র মাঠে ছিলেন। কিন্তু স্পটকিক নিতে এগিয়ে যান ব্রুনো গিমারায়েস। তার শট ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক অরিয়ান নিয়ল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত ব্রাজিল ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয়।
ম্যাচের পর পেনাল্টি না নেওয়া নিয়ে মুখ খুলেছেন ভিনিসিয়ুস। তিনি জানিয়েছেন, দায়িত্ব এড়ানোর প্রশ্নই ছিল না; সিদ্ধান্তটি ছিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির।
ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘কোচ আগেই ঠিক করেন কে পেনাল্টি নেবে। তিনি ব্রুনোকে বেছে নিয়েছিলেন। আমি কখনো অহংকারী ছিলাম না, কখনো টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হতে চাইনি। সে কারণেই ব্রুনো পেনাল্টি নিয়েছে। সে আমার চেয়ে ভালো পেনাল্টি নেয়, তাই কোচ তাকে বেছে নিয়েছেন। আমি কখনো দায়িত্ব এড়াইনি।’
ব্রাজিলের নম্বর ৭ আরও বলেন, ‘অনেকে বলবে আমি নিতে চাইনি। কিন্তু আমি কখনো পালাইনি। রিয়াল মাদ্রিদে কোচ আমাকে বেছে নিলে আমি পেনাল্টি নিই। এখন আমাদের পরের বিশ্বকাপ এবং সামনের ম্যাচগুলোর জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হতে হবে।’
ভিনিসিয়ুসের দাবি, পেনাল্টি টেকার নিয়ে মাঠে কোনো বিতর্ক হয়নি। তার ভাষায়, “কোনো আলোচনা হয়নি। কোচ ব্রুনোকে পেনাল্টি নিতে বেছে নিয়েছিলেন। আমরা প্রতিদিন অনুশীলন করি, আর তিনি ব্রুনোকে বেছে নিয়েছেন। আমি কখনো সর্বোচ্চ গোলদাতা বা সেরা খেলোয়াড় হওয়ার অহংকার করিনি। আমি দলের জন্য খেলি। ওই মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল ব্রুনোর পেনাল্টি নেওয়া।”
ব্রুনোর পাশে দাঁড়িয়ে ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে সে মিস করেছে। এটাই ফুটবল। মাথা উঁচু রাখতে হবে। ব্রুনোর জন্য অনেক শক্তি রইল, কারণ সে দারুণ টুর্নামেন্ট কাটিয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটি এখন পেনাল্টির কারণে দাগ লাগবে।’
আনচেলত্তিও ম্যাচের পর জানিয়েছিলেন, পেনাল্টি টেকার নির্বাচন করা হয়েছিল পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে। তার তালিকায় সেরা পেনাল্টি টেকার ছিলেন নেইমার, এরপর ইগর থিয়াগো, রাফিনিয়া, ব্রুনো গিমারায়েস ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। কিন্তু পেনাল্টি পাওয়ার সময় নেইমার, ইগর থিয়াগো ও রাফিনিয়া কেউই মাঠে ছিলেন না। তাই মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে ব্রুনোকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ব্রুনো পেনাল্টিটি নেন মাঝারি উচ্চতায়। নিয়ল্যান্ড সহজেই সেটি ঠেকিয়ে দেন। নকআউট ম্যাচে সেই মিস পরে বড় হয়ে ওঠে। দ্বিতীয়ার্ধে আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোল নরওয়েকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়। যোগ করা সময়ে নেইমার পেনাল্টি থেকে গোল করলেও ব্রাজিলকে ফেরাতে পারেননি।
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গত মৌসুমে ভিনিসিয়ুস সাতটি পেনাল্টি নিয়েছিলেন, যার পাঁচটিতে গোল করেছিলেন, দুটি মিস করেছিলেন। ব্রাজিলের জার্সিতেও ২০২৩ সালে গিনির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করেছিলেন তিনি। তাই তার মাঠে থাকা সত্ত্বেও ব্রুনোর পেনাল্টি নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

