

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নিউ জার্সির মাঠে নরওয়ের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। আর্লিং হলান্ডের জোড়া গোলে শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ভাইকিংসরা।
ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিলেও, বিশ্লেষণে দেখা যায়, নরওয়ের শক্তির পাশাপাশি ব্রাজিলের একাধিক কৌশলগত ও মানসিক ভুলই এই বিদায়ের প্রধান কারণ।
পুরো ম্যাচজুড়ে প্রতিপক্ষের তুলনায় পিছিয়ে থাকা ব্রাজিল অনেক সময়ই নিজেদের স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ছন্দ খুঁজে পায়নি। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোয় ব্যর্থতা এবং সিদ্ধান্তহীনতা শেষ পর্যন্ত তাদের মূল্য চুকিয়ে দিতে বাধ্য করে।
নিচে ব্রাজিলের বিদায়ের পেছনের বড় ছয়টি কারণ তুলে ধরা হলো—
১. রক্ষণাত্মক কৌশলেই সীমাবদ্ধতা: পুরো ম্যাচে ব্রাজিলের খেলা ছিল বেশ রক্ষণাত্মক। বল দখলে এগিয়ে থাকা নরওয়ের বিপক্ষে তারা চাপ তৈরি না করে পাল্টা আক্রমণের ওপর নির্ভর করে। তবে এই পরিকল্পনা কার্যকর হয়নি, বরং দলকে দীর্ঘ সময় প্রতিরক্ষামূলক অবস্থায় থাকতে বাধ্য করেছে।
২. পেনাল্টি মিসের বড় মাশুল: প্রথমার্ধে পাওয়া পেনাল্টি কাজে লাগাতে পারেননি ব্রুনো গিমারাইস। তার শট ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক। ১৯৮৬ সালের পর বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রথম পেনাল্টি মিস হিসেবে এটি বড় চাপ তৈরি করে ম্যাচে।
৩. আক্রমণে ধার ও পরিপক্বতার অভাব: এন্দ্রিক বদলি হিসেবে নেমে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারত। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র কিছু সময় ঝলক দেখালেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হন।
৪. হলান্ডকে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা: নরওয়ের দুই গোলই আসে আর্লিং হালান্ডের কাছ থেকে। একবার হেডে, আরেকবার নিখুঁত ফিনিশিংয়ে। বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকারকে মার্কিংয়ে ব্যর্থ হওয়াই ব্রাজিলের রক্ষণের বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়ায়।
৫. চাপ সামলাতে মানসিক দুর্বলতা: শেষ দিকে নেইমারের পেনাল্টি গোল ম্যাচে আশা জাগালেও ততক্ষণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পুরো ম্যাচে ব্রাজিলের খেলায় ছিল অনিশ্চয়তা ও আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি, যা বড় ম্যাচে স্পষ্টভাবে ভেসে ওঠে।
৬. মাঝমাঠের সম্পূর্ণ ব্যর্থতা: মাত্র ৩৭ শতাংশ বল দখলে রেখে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায় ব্রাজিল। কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারাইস মাঝমাঠে প্রভাব ফেলতে না পারায় নরওয়ে সহজেই খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করে।

