

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মডেল ও অভিনেত্রী রিদিকা রিধির আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় হাসিবুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (১৬ আগস্ট) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ৯ নম্বর আদালতের বিচারক মাহবুব আলম এ আদেশ দেন।
এর আগে শনিবার রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে হাসিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তাকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় দায়ের করা হয়েছে।
আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী এইচ এম রুহুল আমিন হাসিবুর রহমানের জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রিমান্ডের আবেদন না থাকায় তাকে এজলাসে তোলা হয়নি। আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জামিন শুনানির জন্য আগামী ১৮ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত।
ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, হাসিবুর রহমান রিদিকার প্রেমিক নন, তিনি তার বন্ধু। আইনজীবীর ভাষ্য, মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে রিদিকা হাসিবুর রহমানকে মেসেজ করেছিলেন। নির্ধারিত সময়ে তিনি সেখানে পৌঁছাতে পারেননি। এর আগেই রিদিকা আত্মহত্যা করেন।
আইনজীবী আরও বলেন, রিদিকাকে হাসপাতালে নেওয়া থেকে শুরু করে পরবর্তী বিভিন্ন কার্যক্রমে হাসিবুর উপস্থিত ছিলেন। তিনি পালিয়ে যাননি কিংবা আত্মগোপন করেননি। ঘটনাস্থল ও পরবর্তী কার্যক্রমে থাকার পরই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে রিদিকার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সকাল ছয়টার দিকে সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে পুলিশ এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে।
পরিবারের দেওয়া তথ্যের বরাতে পুলিশ জানায়, রিদিকার সঙ্গে এক ব্যক্তির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। শনিবার ভোরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে ভিডিও কলে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ভিডিও কলে থাকা অবস্থাতেই রিদিকা আত্মহত্যা করেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় রিদিকার মা বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় হাসিবুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
তবে রিদিকার আত্মহত্যার পেছনে হাসিবুর রহমানের কোনো ভূমিকা ছিল কি না, কিংবা মামলার অভিযোগের সত্যতা কতটুকু-তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। আসামিপক্ষ ইতোমধ্যে অভিযোগ অস্বীকার করে তাকে রিদিকার প্রেমিক নন, বন্ধু বলে দাবি করেছে।


