

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও সাবেক মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে রাজ্যের বীরভূম জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের একটি কার্যালয় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এসময় সেখান থেকে একটি কথিত সুইসাইড নোটও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জানা গেছে, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ২০০১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় রামপুরহাটের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তিনি বিধানসভার ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারে স্কুলশিক্ষা, কৃষিসহ বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন।
সবশেষ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও আশিস প্রার্থী হিসেবে রামপুরহাট থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে বিজেপির প্রার্থী ধ্রুব সাহার কাছে তিনি ২৪ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। এরপর থেকে রাজনীতিতে তেমন সক্রিয় দেখা যায়নি তাকে।
এদিকে কী পরিস্থিতিতে আশিসের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উদ্ধার হওয়া কথিত সুইসাইড নোটটির বিষয়বস্তু খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
কথিত সুইসাইড নোটে আশিস বারবার দাবি করেছেন, তিনি কোনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। দলের অন্যায়কে মেনে নিতে না পারলেও তিনি কখনো প্রতিবাদ করতে পারেননি।
তৃণমূল নেতা আরও লিখেছেন, ছাত্রাবস্থায় থেকে তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কোনো দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হননি। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদকও হয়েছিলেন তিনি। রাজনীতিতে বাগ্বিতণ্ডা হয়েছে, কিন্তু শত্রুতা হয়নি। সারা জীবন এক পয়সাও কাজের বিনিময় গ্রহণ করেননি।
আশিস লিখেছেন, তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন সংস্থায় তার তেমন কোনো ক্ষমতা ছিল না। তাকে ছোট করতে অনেক কিছু করা হয়েছে। সভায় যোগ দেওয়া ছাড়া আর কোনো দায়িত্ব ছিল না। টেন্ডার কমিটিতেও রাখা হয়নি তাকে।
‘আমাকে অপমান করার জন্য যা করা হয়েছে, তাকে আমি ধিক্কার জানাই। তাই আমার বংশের ছেলেদের রাজনীতি না করার পরামর্শ দিচ্ছি। ওরা ওদের নিজ কাজে জড়িয়ে থাকুক।’
আশিস আরও লিখেছেন, ‘শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। কোনো দিন ক্লাস ফাঁকি দিইনি। বিশেষ ক্লাস নিয়েছি। অনেককে বিনা পয়সায় পড়িয়েছি। ওদের প্রচুর ভালোবাসা পেয়েছি।’


