

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দীর্ঘ প্রায় তিন বছর পর আবারও ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে ফিরলেন নেইমার। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে ৯৮১ দিনের অপেক্ষার অবসান ঘটান এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। প্রত্যাবর্তনের মুহূর্তটি এতটাই আবেগঘন ছিল যে ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে একা বসে কেঁদেছেন তিনি।
মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও মাতেউস কুনহার গোলে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে টুর্নামেন্টের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। তবে সেলেসাও সমর্থকদের কাছে সবচেয়ে বড় খবর ছিল নেইমারের প্রত্যাবর্তন।
ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে নেইমার বলেন, “আমি খুব আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম। ড্রেসিংরুমে একা বসে কেঁদেছি। এতদিন পর আবার জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামতে পেরে যে অনুভূতি ফিরে পেয়েছি, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।”
জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন কখনোই হারিয়ে ফেলেননি বলেও জানান তিনি। নেইমারের ভাষায়, “ব্রাজিলের হয়ে খেলা, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া এবং একদিন শিরোপা জয়ের স্বপ্ন আমি সবসময় দেখেছি। তাই এই প্রত্যাবর্তন আমার জন্য বিশেষ একটি মুহূর্ত।”
চোট ও দীর্ঘ পুনর্বাসনের সময়টা যে সহজ ছিল না, সেটিও স্বীকার করেছেন তিনি। তবে লক্ষ্য অর্জনে কখনো হাল ছাড়েননি বলে জানান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। “সময়টা কঠিন ছিল, কিন্তু আমি অনুশীলন বন্ধ করিনি। প্রায় ২৫ দিন খুব কঠোর পরিশ্রম করেছি, যাতে নিজেকে প্রস্তুত রাখতে পারি,” বলেন নেইমার।
নিজের বর্তমান ফিটনেস নিয়ে রসিকতাও করেছেন তিনি। হাসতে হাসতে বলেন, “এখন মনে হচ্ছে আমি ২০০ মিনিটও খেলতে পারব।”
এদিকে দলের অন্যতম ভরসা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন নেইমার। তিন ম্যাচে চার গোল করা এই ফরোয়ার্ডকে দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে ভিনিসিয়ুস অসাধারণ ছন্দে আছে। সে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। সামনে নকআউট পর্ব, তাই ওর মতো একজন খেলোয়াড় আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
কথাপ্রসঙ্গে উঠে আসল লিওনেল মেসির প্রসঙ্গ। ঘটনাচক্রে এদিনই ৩৯ বছরে পা দিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে ১৮ গোল করে ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিনের বন্ধু মেসিকে নিয়ে নেইমারের মন্তব্য, “মেসি মাঠের বাইরের মানুষ হিসেবে আরও ভালো।” আরও যোগ করেন, “মাঠে সে কতটা অসাধারণ, সেটা সবাই জানে। তাহলে ভাবুন, মাঠের বাইরে সে কতটা ভালো মানুষ!”
দুজনের এখনও নিয়মিত যোগাযোগ হয় বলেও জানান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক কথা বলি। এই বিশ্বকাপ চলাকালেও কথা হয়েছে। সে জানে, আমি তাকে কতটা ভালোবাসি এবং শ্রদ্ধা করি।’
সবশেষে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন নেইমার। ব্রাজিল তারকা বলেন, ‘আর্জেন্টিনার মানুষের কাছ থেকে আমি সবসময় অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।’
