

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চলমান বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভাররিট ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। তবে গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেয়েছে দলটি। টুর্নামেন্টে ‘আন্ডার ডগ’ ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে রোনালদোদের।
হিউস্টেনের রাতটির শুরু অবশ্য হয়েছে ভিন্নভাবে। ম্যাচের মাত্র ৫ মিনিটের মাথাই জোয়াও নেভেসের গোলে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। তবে আশ্চর্যের বিষয় এর পরই ছন্দপতন ঘটে তাদের। প্রথমার্ধে একাধিক গোলের জন্য একাধিক চেষ্টা করেছে পর্তুগিজরা। তবে গোল তো দূরের কথা কোনো শট টার্গেটেই রাখতে পারেনি তারা।
এদিকে বিবিসি ওয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফ্রান্সের সাবেক ফরোয়ার্ড অলিভার জিরুড বলেছেন, ‘গোলের পর পর্তুগাল যেন ঘুমিয়ে পড়েছিল’। পর্তুগালের সেই ‘ঘুম’ বিরতির পর কিছুটা কাটলেও শেষ পর্যন্ত জয় তাদের হাতে আসেনি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়েই সমতায় ফিরে আসে ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা ডিআর কঙ্গো
যখন পর্তুগালের আক্রমণভাগ নিষ্প্রভ ছিল এবং মাঝমাঠও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছিল না। আফ্রিকার দলটি সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম গোল করে। সেই গোলের সুবাদেই শক্তিশালী পর্তুগালকে ১-১ ব্যবধানে রুখে দেয় ডিআর কঙ্গো, যা চলতি বিশ্বকাপে বড় দলের বিপক্ষে আরেকটি চমক হিসেবে ধরা যায়। একই সঙ্গে এটি তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম পয়েন্টও।
অথচ ম্যাচটি হতে পারত ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোরও বিশেষ এক উপলক্ষ। কানসাসে লিওনেল মেসির ছয়টি বিশ্বকাপে খেলার রেকর্ডের ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে হিউস্টনে মাঠে নেমে সেই রেকর্ডে ভাগ বসান রোনালদো। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে তিনি ছিলেন নিজের সেরা ছন্দের অনেক দূরে। অনেক সময়ই তাকে দেখা গেছে প্রায় নিষ্ক্রিয় অবস্থায়।
প্রথমার্ধে মাত্র ১৬ বার বল ছুঁয়েছেন তিনি, যার মধ্যে প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকেছিল মাত্র একবার। বিরতির পরও তার খেলায় তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফলে পুরো ম্যাচজুড়েই তিনি কার্যত ‘দর্শকের’ ভূমিকায় ছিলেন।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৩৬ ধাপ এগিয়ে থাকা পর্তুগালের বিপক্ষে ‘আন্ডারডগ’ ডিআর কঙ্গো শুরু থেকেই নিজেদের সামর্থ্য দেখিয়েছে। তারা শুধু প্রতিরোধই করেনি, বরং সুযোগ পেয়ে আক্রমণেও ভয় দেখিয়েছে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে।
প্রথমার্ধে পরিসংখ্যানও ম্যাচের চিত্র স্পষ্ট করে দেয়। পর্তুগালের আক্রমণভাগ শট নিতে পেরেছে মাত্র দুইটি, যার মধ্যে একটি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে ডিআর কঙ্গো ছয়টি শট নিয়ে দুটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়।
বিরতির পর পর্তুগাল আক্রমণের গতি বাড়ালেও কার্যকারিতা ছিল কম। দ্বিতীয়ার্ধে তাদের পাঁচটি শটের একটিও লক্ষ্যে ছিল না। অন্যদিকে ডিআর কঙ্গোও তখন বেশি রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে এবং পর্তুগালের বক্সে খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।
মাঝে রোনালদোকে সতীর্থ ভিতিনিয়ার সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়, যেখানে মনে হয়েছে তিনি দলকে গুছিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছিলেন। পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি হয়তো সহকর্মীদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছেন।
কিন্তু আক্রমণভাগের নেতা হয়ে রোনালদো নিজেই তো কিছু করতে পারেননি। গোটা ম্যাচে মাত্র ২৫ বার বল টাচ করতে পেরেছেন—যেটা তাঁর বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে অন্তত ৮০ মিনিট খেলা ম্যাচগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। এতটা ‘ফ্লপ’ রোনালদোকে কোচ রবার্তো মার্তিনেজ কেন আগেভাগে তুলে নিলেন না, সেটাও একটা প্রশ্ন।
