

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ফুটবল কখনো কখনো শুধু খেলা থাকে না-তা হয়ে ওঠে আবেগ, পরিচয়, বিদ্রোহ। আর সেই আবেগের সবচেয়ে জীবন্ত প্রতিচ্ছবি ছিলেন দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা। তিনি ছিলেন না কেবল একজন খেলোয়াড়; তিনি ছিলেন এক যুগ, এক স্পন্দন, এক অমর গল্প।
আর্জেন্টিনার বুয়েনস আয়ার্সের দরিদ্র বস্তি থেকে উঠে আসা এই ছেলেটির পায়ে ছিল এক অদ্ভুত জাদু। বল যেন তার সঙ্গে কথা বলত, আর প্রতিপক্ষ কেবল দর্শক হয়ে থাকত সেই শিল্পের। ড্রিবলিংয়ের মায়াজাল, অপ্রত্যাশিত পাস আর অদম্য আত্মবিশ্বাস—সব মিলিয়ে ম্যারাডোনা ছিলেন এক অনন্য শিল্পী, যিনি ফুটবলকে রূপ দিয়েছিলেন কাব্যে।
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ-ম্যারাডোনার জীবনের মহাকাব্যিক অধ্যায়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একই ম্যাচে ‘হ্যান্ড অব গড’ আর ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন মুহূর্তে তিনি ফুটবলকে দেখিয়েছিলেন তার দুই রূপ। একদিকে বিতর্ক, অন্যদিকে শুদ্ধ সৌন্দর্য। আর সেই আসরেই তিনি একাই প্রায় কাঁধে তুলে নেন আর্জেন্টিনাকে, এনে দেন বিশ্বজয়ের স্বপ্নপূরণ।
ক্লাব ফুটবলে তার সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় নাপোলি। ইতালির দক্ষিণাঞ্চলের অবহেলিত একটি দলকে তিনি তুলে আনেন শীর্ষে। তার নেতৃত্বে নাপোলি জেতে সিরি আ শিরোপা—যা ছিল কেবল ট্রফি জয় নয়, বরং একটি শহরের আত্মপরিচয়ের পুনর্জন্ম।
ম্যারাডোনার জীবন ছিল আলো-ছায়ার মিশেলে ভরা। বিতর্ক, ভুল, সংগ্রাম, সবই ছিল তার সঙ্গী। কিন্তু এই অপূর্ণতাগুলোই তাকে আরও মানবিক করে তুলেছিল, আরও কাছের করে তুলেছিল মানুষের হৃদয়ে।
তিনি হয়তো নিখুঁত ছিলেন না, কিন্তু তিনি ছিলেন সত্যিকারের। আর সেই সত্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে তার অমরত্ব। ম্যারাডোনা আজ নেই, কিন্তু তার ছোঁয়া রয়ে গেছে প্রতিটি ড্রিবলে, প্রতিটি আবেগে, প্রতিটি স্বপ্নে।
ম্যারাডোনা মানে শুধু ফুটবল নয়—ম্যারাডোনা মানে এক অনুভব, যা কখনো ফুরায় না।
