বৃহস্পতিবার
১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পেলের আগেই ব্রাজিল ফুটবলের পথপ্রদর্শক: জিজিনহোর গল্প

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম
ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তী জিজিনহো
expand
ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তী জিজিনহো

ফুটবল দুনিয়ায় পেলের আগমন অনেক পরে, কিন্তু তারও আগে ব্রাজিল পেয়েছিল এক অসাধারণ শিল্পী জিজিনহো। নান্দনিকতা, কৌশল আর আবেগের অনন্য মিশেলে তিনি গড়ে তুলেছিলেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের নিজস্ব এক ধারা। শুধু খেলোয়াড় হিসেবেই নয়, কোচ হিসেবেও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে প্রভাবিত করেছেন এই কিংবদন্তি।

১৯৫৭ সালের নভেম্বরে সান্তোসের ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামে এক বিশেষ মুহূর্তের জন্ম হয়। একদিকে তরুণ ১৭ বছর বয়সী পেলে, অন্যদিকে ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে থাকা ৩৬ বছর বয়সী জিজিনহো। সেদিন সাও পাওলো ৬–২ ব্যবধানে জয় পেলেও ম্যাচটির আসল গুরুত্ব ছিল এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে উত্তরাধিকার হস্তান্তরের প্রতীক হয়ে থাকা সেই দৃশ্য।

পেলে নিজেও বারবার স্বীকার করেছেন জিজিনহোর মাহাত্ম্য। তার ভাষায়, “আমি যত খেলোয়াড় দেখেছি, তাদের মধ্যে জিজিনহোই সেরা।” পেলের চোখে তিনি ছিলেন পূর্ণাঙ্গ ফুটবলার, মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণ গড়া, ড্রিবলিং কিংবা প্রতিপক্ষকে ঠেকানো সব ক্ষেত্রেই ছিলেন অনন্য।

থমাস সোয়ারেস দ্য সিলভা, যিনি ফুটবল বিশ্বে জিজিনহো নামে পরিচিত, জন্মগ্রহণ করেন রিও ডি জেনেইরোর সাও গনসালোতে। ফ্লামেঙ্গোর জার্সিতে তার উত্থান, যেখানে তিনি ১৯৩৯ থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত খেলেন। পরবর্তীতে বাঙ্গু, সাও পাওলো, উবেরাবা এবং চিলির অডাক্স ইতালিয়ানোর হয়েও মাঠ মাতান। ফ্লামেঙ্গোর হয়ে টানা তিনটি রাজ্য শিরোপা জয়ের পাশাপাশি ১৯৫৭ সালে সাও পাওলোর হয়ে আরেকটি শিরোপা জেতেন।

১৯৫০ বিশ্বকাপে, যা ব্রাজিলেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল, জিজিনহো ছিলেন অন্যতম সেরা পারফর্মার। মারাকানাজোর হতাশা সত্ত্বেও তার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ছিল উজ্জ্বল। বিশেষ করে যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে তার খেলা এখনও স্মরণীয়। জাতীয় দলের হয়ে ৫৩ ম্যাচে ৩০ গোলের পাশাপাশি তিনি রেখে গেছেন নেতৃত্ব ও কৌশলগত দক্ষতার দৃষ্টান্ত।

ড্রিবলিং ও নিখুঁত পাসে তিনি ছিলেন অতুলনীয়। আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ষণে নেমে আসা কিংবা সুযোগ পেলে গোল করা সবই ছিল তার খেলায়।

খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচিংয়েও রেখে গেছেন গভীর প্রভাব। ‘মেস্ত্রে জিজা’ নামে পরিচিত এই কিংবদন্তি জারসন ও জিকোর মতো তারকাদের পথ দেখিয়েছেন। তার শিক্ষা ছিল সহজ মাঠে বল পেলে চারপাশ বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া। আর খেলাটির প্রতি ভালোবাসা ও ক্লাবের প্রতি দায়বদ্ধতা ছিল তার মূল দর্শন।

জিজিনহো কেবল একজন ফুটবলার নন, তিনি একটি দর্শনের নাম। পেলের আগেই তিনি শিখিয়েছিলেন—ফুটবল শুধু জয়-পরাজয়ের খেলা নয়, এটি অনুভূতিরও এক শিল্প।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন