

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


প্রায় এক শতাব্দী ধরে অনুষ্ঠিত ২২টি বিশ্বকাপে হাজার হাজার কিংবদন্তি খেলোয়াড় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র কয়েকজনই অমর আইকন হয়ে উঠেছেন। বিশ্বমঞ্চে হাজারো ফুটবলার পা রাখলেও কতজন পেরেছেন নিজেদের অনন্য কীর্তিতে ইতিহাস রাঙাতে?
বিবিসি স্পোর্টের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, রেকর্ড তিনটি বিশ্বকাপ শিরোপা নিয়ে পেলে এখনও সর্বশ্রেষ্ঠ কিংবদন্তি হিসেবে রয়েছেন, অন্যদিকে লিওনেল মেসি এবং কিলিয়ান এমবাপের মতো উত্তরসূরিরা তাদের অসাধারণ প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও এখনও শীর্ষস্থানটি দখল করতে পারেননি।
তালিকার শুরুতেই রয়েছেন ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্ট। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে ইনজুরিতে থাকা জিমি গ্রিভসের জায়গায় খেলতে নেমে ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে ইংল্যান্ডকে একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ এনে দেন তিনি।
এরপর আছেন ব্রাজিলের কাফু। ফুটবল ইতিহাসে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার অনন্য রেকর্ড গড়েছেন এই ডান প্রান্তের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার, যিনি ১৯৯৪ ও ২০০২ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন।
ইতালির পাওলো রসি ১৯৮২ বিশ্বকাপে যেন রূপকথার গল্প লিখেছিলেন। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফিরে এসে ব্রাজিল ও পোল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ গোল করার পাশাপাশি ফাইনালেও জালে বল জড়িয়ে তিনি জিতেছিলেন গোল্ডেন বুট ও গোল্ডেন বল।
ফরাসি ফুটবলের আইকন জিনেদিন জিদানও এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। ১৯৯৮ বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি ফ্রান্সকে প্রথম বিশ্বকাপ এনে দেন। ২০০৬ ফাইনালে বিতর্কিত লাল কার্ড পেলেও বিশ্বকাপ ইতিহাসে তার প্রভাব অম্লান।
মাত্র দুই বিশ্বকাপ খেলেই কিলিয়ান এমবাপ্পে জায়গা করে নিয়েছেন কিংবদন্তিদের কাতারে। ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর ২০২২ ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে তিনি আধুনিক ফুটবলের অন্যতম বড় তারকায় পরিণত হন।
জার্মানির ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার ফুটবল ইতিহাসে অনন্য এক নাম। খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৭৪ সালে এবং কোচ হিসেবে ১৯৯০ সালে বিশ্বকাপ জিতে তিনি বিরল ডাবল অর্জন করেন।
আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে এসে পূর্ণতা পান ২০২২ সালে। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা এনে দেন তিনি, যা তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন।
ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের নাম। ১৯৯৮ সালের ব্যর্থতার পর ২০০২ সালে ইনজুরি কাটিয়ে ফিরে এসে ৮ গোল করে ব্রাজিলকে পঞ্চম বিশ্বকাপ জেতান তিনি।
আর দিয়েগো ম্যারাডোনা বিশ্বকাপের আবেগ, বিতর্ক ও প্রতিভার প্রতীক। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে তার “হ্যান্ড অব গড” ও শতাব্দীর সেরা গোল ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।
তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ফুটবলের রাজা খ্যাত কিংবদন্তী পেলে। তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের অনন্য রেকর্ড এবং ১৯৫৮ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে বিশ্বমঞ্চে তার উত্থান তাকে ফুটবল ইতিহাসে অপ্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। বিশ্বকাপ যতদিন থাকবে, পেলের নামও ততদিনই অমর থাকবে।
