

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঢাকার কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর এলাকায় একটি কুরিয়ার সার্ভিসের পিকআপ ভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের একাংশের সংঘর্ষে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি গুরুতর আহত হয়েছেন।
তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুন রাতে ‘স্টেডফাস্ট কুরিয়ার’ সার্ভিসের একটি পিকআপ ভ্যান ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে।
অভিযোগ উঠেছে, ছিনতাইকারীরা গাড়িটিতে থাকা বিপুল পরিমাণ মূল্যবান মালামাল লুট করে নেয়। পরে তারা খালি পিকআপ ভ্যানটি মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
মালামালসহ গাড়ি ছিনতাইয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও স্থানীয়রা ঘাটারচর এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে সেখানে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টার একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মচারীর তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এটি পরবর্তীতে হাতাহাতি ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষ চলাকালীন কুরিয়ার কর্মচারীদের একাংশের হামলায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি গুরুতর আহত হন। এ সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের বলছেন, এই চাঞ্চল্যকর ছিনতাইয়ের পেছনে কুরিয়ার সার্ভিসের ঘাটারচর শাখার অভ্যন্তরীণ কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর যোগসাজশ থাকতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ভেতরের তথ্য বা ‘লাইন’ ছাড়া এত নিখুঁত ও পরিকল্পিতভাবে মালামালসহ পুরো ভ্যান ছিনতাই করা অসম্ভব।
ঘটনার পর থেকে পুরো ঘাটারচর ও আশপাশ এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল এই ছিনতাইয়ের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, লুটের মালামাল উদ্ধার এবং ওসির ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জামিলুল হক জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ওসির ওপর হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
ছিনতাই হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং এই হামলার সাথে জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।