

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং একটি পর্তুগিজ টেলিভিশন চ্যানেলে প্রদর্শিত রোনালদো ও জর্জিনার একটি কথিত বিয়ের কার্ডটি মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। সেখানে দাবি করা হয়, ১ আগস্ট পর্তুগাল সময় অনুযায়ী তাদের বিয়ে অনুষ্ঠিত হবে এবং অতিথিদের জন্য রাখা হয়েছে ‘অল-ব্ল্যাক’ ড্রেস কোড।
কিন্তু কার্ডটি গভীরভাবে লক্ষ্য করলেই এর পেছনের অসত্যতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সময়সূচিতে চরম অসঙ্গতি (এক জায়গায় দুপুর ২টা, অন্য জায়গায় বিকেল ৫টা) এবং একটি সম্পূর্ণ সাধারণ ও উন্মুক্ত স্থানকে ভেন্যু হিসেবে উল্লেখ করা- যা রোনালদোর মতো বিশ্বখ্যাত তারকা ও তার নিরাপত্তার স্বার্থে একেবারেই অসম্ভব।
পরবর্তীতে রোনালদোর পরিবার এবং স্প্যানিশ সাময়িকী 'হোলা' (¡HOLA!) নিশ্চিত করে যে, সেদিন এমন কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান নির্ধারিত ছিল না।
ভাইরাল কার্ডের পর সবচেয়ে বেশি চর্চা হয়েছে অতিথি তালিকা নিয়ে। সেই তালিকায় বিশ্বমানের অনেক তারকা ফুটবলার ও সেলিব্রিটিদের নাম থাকলেও স্থান পাননি রোনালদোর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি।
এটি নিয়ে ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয় নতুন বিতর্ক ও জল্পনা-কল্পনা। তবে কার্ডটি যেহেতু সম্পূর্ণরূপে ভুয়া এবং ভিত্তিহীন, তাই মেসিকে দাওয়াত দেওয়া বা না দেওয়া সংক্রান্ত সমস্ত বিতর্কেরই কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নেই।
কার্ডের বিতর্কের আগুনে ঘি ঢালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI প্রযুক্তি। সাম্প্রতিক সময়ে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একগুচ্ছ ছবিতে দেখা যায়, রোনালদো ও জর্জিনা বিয়ের পোশাকে সজ্জিত এবং সেখানে মেসি সহ অন্যান্য বিখ্যাত ফুটবল তারকারা আতিথ্য গ্রহণ করছেন।
অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে এআই দিয়ে তৈরি এই ছবিগুলো প্রথম দেখায় আসল মনে হলেও, তা মূলত নেটিজেন ও ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের তৈরি করা কাল্পনিক দৃশ্যপট ছাড়া আর কিছুই নয়।
প্রায় দীর্ঘ নয় বছর ধরে একসঙ্গে রয়েছেন রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজ এবং তাদের সংসারে দুটি সন্তানও রয়েছে। বাগদানের পর থেকে তাদের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া নিয়ে ভক্তদের আগ্রহের শেষ নেই।
তবে তারকাদের বাস্তব জীবনকে ঘিরে নেটিজেনদের অতি-উৎসাহ এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার যে কীভাবে একটি কাল্পনিক ঘটনাকে বিশ্বজুড়ে গুজবে রূপ দিতে পারে, এই ঘটনা তারই একটি জ্বলন্ত উদাহরণ।