শনিবার
০৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
০৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরক ছাড়াও যে ২ পাপের জন্য রয়েছে ভয়ংকর শাস্তি

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৮ এএম
ছবি : সংগৃহীত।
expand
ছবি : সংগৃহীত।

মহান আল্লাহ পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু। তিনি বান্দার বহু গুনাহ ক্ষমা করে দেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের ওপর যে বিপদ-আপদ আসে, তা তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল। আর তিনি অনেক কিছু ক্ষমা করে দেন।’ (সুরা আশ-শুরা, আয়াত: ৩০)

ইসলামে এমন কিছু গুনাহের কথা বলা হয়েছে, যেগুলোর জন্য আখিরাতে শাস্তির পাশাপাশি দুনিয়াতেও শাস্তির বিধান রয়েছে। আবার কিছু নেক আমল রয়েছে, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বান্দার গুনাহ ক্ষমা করার পাশাপাশি তার মর্যাদাও বৃদ্ধি করেন।

তাই পরকালে সফলতা অর্জনের জন্য দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনে গুনাহ থেকে নিজেকে দূরে রাখা জরুরি। একই সঙ্গে নেক আমল ও সৎকাজে মনোযোগী হওয়াও প্রয়োজন। কারণ, মানুষের আমলই নির্ধারণ করবে আখিরাতে তার পরিণতি জান্নাত নাকি জাহান্নাম।

শিরক ছাড়া আরও অনেক কবিরা গুনাহ রয়েছে, যেগুলোর জন্য আখিরাতে কঠিন শাস্তির কথা বর্ণিত হয়েছে। এর মধ্যে এমন দুটি গুরুতর গুনাহ রয়েছে, যেগুলো সম্পর্কে মুসলমানদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকা উচিত।

তবে মহান রাব্বুল আলামিন পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু। যার ফলে তিনি বান্দার অনেক গুনাহ বা পাপই ক্ষমা করে দেন। পবিত্র কুরআনে খোদ আল্লাহ তা’আলা ঘোষণা দিয়েছেন, ‘আর তোমাদের প্রতি যে মুসিবত (বিপদ) আপতিত হয়, তা তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল। আর অনেক কিছুই তিনি ক্ষমা করে দেন।’ (সুরা আশ-শুরা, আয়াত: ৩০)

এ ক্ষেত্রে কিছু গুনাহ বা পাপ রয়েছে যেগুলোর জন্য আখিরাতে শাস্তি তো আছেই, দুনিয়াতেও এর জন্য শাস্তি নির্ধারিত রয়েছে। আবার কিছু আমলের কথাও হাদিসে এসেছে, যার মাধ্যমে মহান রাব্বুল আলামিন বান্দার পাপ বা গুনাহ মাফ বা ক্ষমা করার পাশাপাশি তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। তাই পরকালে সফল হতে ক্ষণস্থায়ী এই পৃথিবীতে পাপ বা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা জরুরি। সেই সঙ্গে উত্তম আমল করাও আবশ্যক। কারণ, বান্দার আমলেই নির্ধারণ হবে পরকালে তার ঠিকানা হবে চিরশান্তির জান্নাত নাকি জাহান্নাম। নিচে সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ শিরক ছাড়া এমন দু’টি গুনাহ বা পাপের কথা তুলে ধরা হলো, যেগুলোর জন্য আখিরাতে ভয়ংকর শাস্তি নির্ধারিত রয়েছে।

অন্যায়ভাবে মানুষকে হত্যা করা

মানুষ হত্যা করা মহাপাপ বা সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ। এর জন্য কিয়ামতে ভয়ংকর শাস্তি রয়েছে। ইসহাক ইবনু মনসুর (রহ.) ও আমর (রহ.) আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- কবিরা গুনাহগুলোর (বড় গুনাহ) মধ্যে সবচাইতে বড় গুনাহ হচ্ছে- আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা, প্রাণ সংহার করা (মানুষ হত্যা), পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, আর মিথ্যা বলা অথবা নবীজি (সা.) বলেছেন, মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৪০৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৫৯)

পবিত্র কুরআনেও মানুষ হত্যার জন্য আখিরাতে ভয়ংকর পরিণতির কথা এসেছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি কোনো মু’মিনকে ইচ্ছাপূর্বক হত্যা করে, তার শাস্তি জাহান্নাম। যাতে সে স্থায়ীভাবে থাকবে, তার ওপর আল্লাহর ক্রোধ ও অভিসম্পাত (অভিশাপ)। আল্লাহ তার জন্য মহাশাস্তি নির্দিষ্ট করে রেখেছেন।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ৯৩)

বাবা-মায়ের নাফরমানি বা অবাধ্যতা

ইসলামে বাবা-মায়ের সঙ্গে সদাচরণের বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা এসেছে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমার রব আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাঁকে (আল্লাহকে) ছাড়া অন্য কারও ইবাদাত করবে না এবং পিতা-মাতার সঙ্গে সদাচরণ করবে। তাদের (বাবা-মা) একজন অথবা উভয়েই যদি তোমার নিকট বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদের (বিরক্তির সুরে) ‘উফ’ বলো না এবং তাদের ধমক দিও না। আর তাদের সঙ্গে সম্মানজনক কথা বলো।’ (সুরা ইসরা, আয়াত: ২৩)

অন্যদিকে বাবা-মায়ের অবাধ্যতা ইসলামে কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। এর জন্যও আখিরাতে কঠিন শাস্তি নির্ধারিত রয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, একবার সাহাবায়ে-কেরামদের সামনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে উঠলেন- ওই ব্যক্তির নাক ধূলিমলিন হোক (ওই ব্যক্তি ধ্বংস হোক)। এ কথাটি তিনি পরপর তিনবার বলেন। পরে সাহাবারা নবীজির (সা.) কাছে জানতে চান, ইয়া রাসুলুল্লাহ! (সা.) কার? জবাবে নবীজি (সা.) বললেন, যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতা উভয়কে কিংবা একজনকে বার্ধক্য অবস্থায় পেল এবং সে জান্নাতে প্রবেশ করার সুযোগ লাভ করলো না। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৬২৭৯)

মনে রাখতে হবে, পরকালে সফল হতে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার পাশাপাশি মহান রবের আদেশ-নিষেধ, নবীজির (সা.) এর দেখানো তরিকার সঙ্গে বাবা-মায়ের সঙ্গেও সদ্ব্যবহার করতে হবে। আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, একবার এক ব্যক্তি রাসুল (সা.) কে বললো, হে আল্লাহর রাসুল! (সা.) সন্তানের ওপর মাতা-পিতার কী অধিকার আছে? জবাবে নবীজি (সা.) বললেন, তারা (বাবা-মা) তোমার জান্নাত এবং তোমার জাহান্নাম। (সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিস: ৩৬৬২)

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ফজর --:--
জোহর --:--
আছর --:--
মাগরিব --:--
ঈশা --:--
পরবর্তী ওয়াক্ত শুরু হতে বাকি: মাগরিব --:--:--
সেহেরির শেষ সময় --:--
ইফতার --:--
ইফতার শুরু হতে বাকি
--:--:--
ঘণ্টা মিনিট সেকেন্ড
⏳ লোড হচ্ছে...
⛔ সংযোগ সমস্যা।