

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


স্যোশাল মিডিয়ায় অন্যের ফটো, ভিডিও বা কোনো ধরনের কনটেন্ট নিজের টাইমলাইনে আপলোড করেন না- এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। হাসি-তামাশা, বিনোদন হোক, বা শিক্ষনীয়-আলোচিত কোনো বিষয়- ব্যাপকভাবে এ কাজের সাথে জড়িয়ে সমাজের মানুষ। এ ক্ষেত্রে অনুমতি নেয়ার তোয়াক্কা করেন না কেউ কারো। এ কাজ যদিও এখন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। সবার কাছে এ নিতান্তই স্বাভাবিক একটা কাজ! তবে একজন মুসলিম হিসেবে জানা থাকা জররি- এ ক্ষেত্রে শরিয়তের নির্দেশনা কী?
শরিয়া বিশ্লেষকদের মতে, যদি ভিডিও বা কন্টেন্ট কারো ব্যক্তিগতভাবে তৈরি হয়ে থাকে এবং একান্ত তার জন্যই হয়, তাহলে তার অনুমতি ছাড়া, সেই ভিডিও-কন্টেন্ট নিজের আইডি বা পেজে আপলোড করা ইসলামের দৃষ্টিতে না-জায়েজ বা হারাম।
মনে রাখা জরুরি, ইসলামে অন্যের মালিকানাধীন যেকোনো সম্পদ (তা বস্তুগত হোক বা মেধাভিত্তিক) অন্যায়ভাবে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ হারাম। কেননা অন্যের মেধা ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি ছাড়া তা নিজের ব্যবহারের জন্য নেওয়া চুরির সমতুল্য।
তবে কনটেন্ট যদি তার একান্ত তৈরি না হয় এবং তা কেবল বিনোদন ও ভাইরালের উদ্দেশ্যেই তৈরি করা হয়, তাহলে সেটা লেখা বা বাণী হলে, পোস্ট করার সময় অবশ্যই লেখকের নাম উল্লেখ বা ম্যানশন করে পোস্ট করতে হবে। আর সেটা ভিডিও বা ফটো হলে, যদি তাতে নির্মাণকারীর নাম থাকে, তাহলে তা কাটা বা মোছা যাবে না।
মোটকথা, অন্যের কোনো কাজ নিজের নামে চালিয়ে দেয়া জায়েজ হবে না।
রাসুল সা. বলেছেন, ‘মানুষ যে বস্তুর মালিক নয়, তা নিজের বলে প্রকাশ করা, দুটি মিথ্যার চাদর পরিধানকারীর ন্যায়।’ (বুখারী ও মুসলিম) (আল কালেমুত তাইয়্যেব- ইবনে তায়মিয়া, তাহকীক আলবানী ভূমিকা, পৃষ্ঠা: ১১)
অন্য হাদিসে রাসুল সা. বলেছেন, ‘যে ধোঁকা দেয়, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভূক্ত নয়। (সহিহ মুসলিম: ১৬৪)
প্রখ্যাত মুসলিম মনীষী ও তাফসিরবিদ ইমাম সুয়ুতি বলেন,‘ইলমের বরকত এবং শুকরিয়া তখন হবে, যখন এটা কোথা থেকে সংকলন করা হয়েছে, তার উৎস পেশ করা হবে।’ (আল মুযাহহার ২/২৭৩)
তবে, যদি লেখক বা নির্মাতার নাম অজ্ঞাত থাকে, তাহলে উল্লেখ না করাতে সমস্যা নেই।
সূত্র: মুসলিম বাংলা