

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


একে-অপরের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করার প্রবণতা দিনদিন বেড়েই চলেছে। ছোঁয়াচে রোগের মতো সর্বমহলে ছড়িয়ে পড়ছে এই মহামারি। ফলে ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক-সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন পর্যন্ত হয়ে পড়ছে দুর্বিসহ। তাই এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার আগে মুসলমান মাত্রই জেনে রাখা জরুরি, শরিয়তের নির্দেশনা কী?
এখানে এনপিবি নিউজের পাঠকদের জন্য এখানে শরিয়তের নির্দেশনা তুলে ধরা হলো-
শরিয়া বিশ্লেষকদের মতে, কারো ব্যক্তিগত বা অন্তরঙ্গ তথ্য, চাই তা হোক ছবি বা ভিডিও কিংবা অন্য কোনো তথ্য- ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা সম্পূর্ণ না-জায়েজ এবং অত্যন্ত গর্হিত কাজ। কেউ এমন কাজ করলে শুধু তাওবা করাই যথেষ্ঠ নয়; বরং ভুক্তভোগীর কাছে ক্ষমা চাওয়া জরুরি।
রাসুল সা. বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সম্মানহানি বা অন্য কোনো বিষয়ে জুলুম করেছে, সে যেন আজই (দুনিয়াতেই) তার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেয়। সেদিন আসার আগে, যেদিন কোনো দিনার বা দিরহাম (টাকা-পয়সা) থাকবে না। যদি তার কোনো সৎ আমল থাকে, তবে তার জুলুমের পরিমাণ অনুযায়ী তা নিয়ে নেওয়া হবে। আর যদি তার কোনো নেকি না থাকে, তবে তার ভাইয়ের (মজলুমের) গুনাহ তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৪৪৯)
যারা কারো গোপন তথ্য প্রকাশ করে, পবিত্র কোরআনে তাদের কঠিন শাস্তির কথা বলা হয়েছে- ‘নিশ্চয়ই যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার (বা গোপন কুৎসা ও কেলেঙ্কারির) প্রসার কামনা করে, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’ (সুরা আন-নুর, আয়াত: ১৯)
অপর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘ধ্বংস সে ব্যক্তির জন্য, যে সামনে ও পেছনে মানুষের দোষ খুঁজে বেড়ায়।’ (সুরা আল-হুমাজাহ, আয়াত: ০১)
রাসুল সা. বলেছেন, …তোমরা মুসলমানদের গিবত করো না এবং তাদের গোপন ত্রুটি অনুসন্ধান করো না। কারণ, যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের গোপন ত্রুটি অনুসন্ধান করে, আল্লাহ তার গোপন ত্রুটি অনুসন্ধান করেন। আর আল্লাহ যার গোপন ত্রুটি অনুসন্ধান করেন, তাকে তার ঘরের ভেতরেই অপমানিত ও লাঞ্ছিত করবেন।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৮০)
আর যারা মানুষের দোষ জেনেও গোপন রাখে, অপর হাদিসে রাসুল সা. তাদের দিয়েছেন সুসংবাদ, ‘যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো বান্দার (ব্যক্তিগত বা অন্তরঙ্গ) দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৯০)