

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কোরবানি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে এটি আদায় করা হয়। সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য নির্ধারিত সময়ে পশু কোরবানি করা ধর্মীয়ভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পবিত্র কোরআনেও নামাজের পাশাপাশি কোরবানির নির্দেশনা এসেছে।
তবে কোরবানি শুধু পশু জবেহ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; শরিয়তের নির্ধারিত কিছু শর্ত পূরণ হওয়াও জরুরি। এর মধ্যে অন্যতম হলো কোরবানির পশুর নির্ধারিত বয়স পূর্ণ হওয়া। ইসলামী বিধান অনুযায়ী, প্রতিটি পশুর জন্য আলাদা বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শরিয়ত অনুসারে, উট কোরবানি করতে হলে তার বয়স কমপক্ষে পাঁচ বছর হতে হবে। গরু ও মহিষের ক্ষেত্রে ন্যূনতম দুই বছর পূর্ণ হওয়া আবশ্যক। আর ছাগলের বয়স কমপক্ষে এক বছর হতে হবে। ভেড়া ও দুম্বার ক্ষেত্রেও সাধারণত এক বছর বয়সের শর্ত রয়েছে। তবে কোনো ভেড়া বা দুম্বা যদি ছয় মাস বয়সেই আকার-আকৃতিতে এক বছরের মতো মনে হয়, তাহলে তা কোরবানির জন্য বৈধ বলে গণ্য হবে।
তবে ছয় মাসের কম বয়সী ভেড়া বা দুম্বা দিয়ে কোরবানি সহিহ হবে না। একইভাবে ছাগলের ক্ষেত্রে বয়সের ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই। দেখতে বড় বা মোটাতাজা হলেও এক বছর পূর্ণ না হলে সেই ছাগল কোরবানির উপযুক্ত হবে না। এমনকি এক বছর পূর্ণ হতে যদি এক দিনও বাকি থাকে, তবুও তা গ্রহণযোগ্য নয়।
এ বিষয়ে হাদিসে স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা নির্ধারিত বয়সের পশু ছাড়া কোরবানি কোরো না। যদি তা পাওয়া কঠিন হয়, তাহলে ছয় মাস বয়সী ভেড়া বা দুম্বা কোরবানি করতে পারো।’ (সহিহ মুসলিম: ১৯৬৩)
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, কোরবানির পশুর বয়স যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদিত একটি ইবাদত। তাই পশু কেনার সময় দাঁত পরীক্ষা করা বা অভিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ নেওয়ার মাধ্যমে বয়স নিশ্চিত হওয়ার পরই কোরবানির পশু নির্বাচন করা উচিত।
