সোমবার
১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রবাসীরা কি দেশে কোরবানি দিতে পারবেন

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬, ১০:০৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

আমাদের দেশের অনেক প্রবাসীকে ঈদের দিনগুলোয় বিদেশে অবস্থান করতে হয়। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নানা কারণে তারা দেশে আসতে পারেন না। ঈদুল আজহায় যারা দেশে আসতে পারেন না, তারা আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে দেশে কোরবানি দেন। প্রশ্ন হলো, বিদেশে অবস্থানকারীর কোরবানি দেশে আদায় করলে হবে কি না? কোরবানিদাতা ও কোরবানির পশু ভিন্ন স্থানে থাকলে কোরবানি হবে?

সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য কোরবানি করা ওয়াজিব। স্বাভাবিক জ্ঞানসম্পন্ন, প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম যদি কোরবানি ঈদের তিন দিন (১০ জিলহজ সকাল থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগপর্যন্ত) জাকাত পরিমাণ সম্পদের মালিক (সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ ভরি রুপা অথবা এর যে কোনো একটির মূল্যের সমপরিমাণ নগদ অর্থ ব্যবসার পণ্যের মালিক) থাকেন বা হন, তার জন্য কোরবানি ওয়াজিব।

কোরবানিদাতা যে দেশে অবস্থান করেন, তার জন্য ওই দেশে কোরবানি করা আবশ্যকীয় নয়। তার নির্দেশক্রমে তার পক্ষ থেকে পৃথিবীর যে কোনো জায়গায় কোরবানি করলে আদায় হয়ে যাবে। প্রবাসীরা বিদেশে অবস্থান করে নিজ দেশে কোরবানি দিলে কোরবানি হবে।

ঢাকা থেকে প্রকাশিত আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ সম্পাদিত মাসিক আল-কাউসারে এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, ‘প্রবাসীরা বিদেশে অবস্থান করে নিজ দেশে কোরবানি দিতে পারবে। এতে তার পক্ষ থেকে কোরবানি আদায় হয়ে যাবে। প্রবাসীর এখানে কোরবানির সময় হওয়া ধর্তব্য নয়, যেখানে কোরবানি দেওয়া হয়, মূলত ওই জায়গার সময়ই ধর্তব্য হয়।’ (ফাতাওয়া খানিয়া: ৩/৩৪৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ৫/২৯৬)

ইসলামি বিশেষজ্ঞরা বলেন, কোরবানিদাতা ও কোরবানির পশু এক জায়গায় থাকা জরুরি নয়। কোরবানিদাতা এক জায়গায় আর কোরবানির পশু ভিন্ন জায়গায় থাকলে কোরবানিদাতার ঈদের নামাজ পড়া বা না পড়া ধর্তব্য নয়। পশু যে এলাকায় আছে ওই এলাকায় ঈদের জামাত হয়ে গেলে পশু জবাই করা যাবে।

ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধান কোরবানি। আর্থিক ইবাদতের মধ্যে বিশেষ স্বাতন্ত্র ও মর্যাদার অধিকারী। কোরবানি করতে হয় শুধু আল্লাহর জন্য। কারও খুশি কিংবা লোক দেখানোর জন্য কোরবানি করলে তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।

কোরবানিতে আল্লাহ শুধু মানুষের নিয়ত বা ইচ্ছা দেখেন। তাকওয়া দেখেন। যার তাকওয়া যত বেশি, সে আল্লাহর নৈকট্য পাবে তত বেশি। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের কোরবানির পশুর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না। আল্লাহর কাছে পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া বা আল্লাহভীতি।’ (সুরা হজ, আয়াত: ৩৭)

আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘(হে ইবরাহিম) বলুন, আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন-মরণ আল্লাহর জন্য। যিনি বিশ্ব জগতের প্রতিপালক’। (সুরা আনয়াম, আয়াত: ১৫২)

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন