

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে হঠাৎ করেই আলোচনায় উঠে এসেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি নামের একটি ব্যতিক্রমী দলের নাম। নিজেদের ব্যঙ্গাতম্মক রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে পরিচয় দিলেও কৌতুক বা সামাজিক বিদ্রূপ হিসেবে শুরু হলেও অল্প সময়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে সংগঠনটি। ইতোমধ্যে কয়েকজন পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও প্রকাশ্যে এই সংগঠনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
মাত্র ৭২ ঘণ্টা আগে সংগঠনটির সূচনা করেন অভিজিৎ ডিপ নামের এক ভারতীয় তরুণ, যিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বস্টন ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করছেন। এর আগে তিনি আম আদমি পার্টির সোশ্যাল মিডিয়া টিমের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। প্রতিষ্ঠার কয়েক দিনের মধ্যেই সংগঠনটির সদস্যসংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামটি এসেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি এক মামলার শুনানিতে তিনি বেকার ও কর্মহীন তরুণদের নিয়ে এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
অভিযোগ ওঠে, তিনি বেকার যুবকদের ‘আরশোলা’ ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করেছেন এবং মন্তব্য করেছেন, জীবনে কিছু করতে না পারলে অনেকেই সাংবাদিকতা, সমাজকর্ম কিংবা আইন পেশায় চলে যান।
এই মন্তব্যের পর থেকেই বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। পরে প্রধান বিচারপতি দাবি করেন, সেগুলো ছিল মৌখিক পর্যবেক্ষণ এবং তাঁর বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। কিন্তু ততক্ষণে বিষয়টি সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদ হিসেবে গড়ে ওঠে সিজেপি।
সংগঠনটির সঙ্গে ইতোমধ্যে ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের কয়েকজন পরিচিত মুখের নামও জড়িয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, তাঁকে যেহেতু ‘দেশদ্রোহী’ তকমা দেওয়া হয়েছে, তাই তিনি এই দলে যোগ দিতে চান। পরে সিজেপি তাঁকে ‘যোদ্ধা’ হিসেবে স্বাগত জানায়। আরেক তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদও দলটিতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। জবাবে সংগঠনটি রসিকতা করে জানায়, ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য হওয়াই যোগদানের জন্য যথেষ্ট যোগ্যতা।
সিজেপির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের ‘ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক ও অলস দল’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে তারা পাঁচ দফা ইশতেহারও প্রকাশ করেছে।
তরুণদের আকৃষ্ট করতে সংগঠনটি বিশেষ করে জেন-জি প্রজন্মকে লক্ষ্য করছে। দলে যোগ দেওয়ার শর্ত হিসেবেও ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় বলা হয়েছে, সদস্যদের ‘বেকার’, ‘অলস’ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হতে হবে। পাশাপাশি ‘পেশাদারের মতো অভিযোগ করতে জানতে হবে’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বর্তমানে দুই হাজারের বেশি রাজনৈতিক দল রয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় দল ছয়টি এবং আঞ্চলিক দল ৬০টি। তবে অধিকাংশ দলই নিবন্ধিত হলেও স্বীকৃত নয়।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, সিজেপি কি শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে, নাকি এটি শুধুই ডিজিটাল প্রতিবাদের নতুন রূপ হয়ে থাকবে। তবে অল্প সময়েই যুবসমাজের একটি অংশের মধ্যে সংগঠনটি যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে, তা স্পষ্ট।
