

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিনিয়তই নানা বিষয় ভাইরাল হয়। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ফেসবুক, টিকটক কিংবা ইউটিউবে স্ক্রোল করলেই স্ক্রিনে ভেসে উঠছে একটি বিশেষ সংলাপ-
‘রাগ করলা, কথাটা ঠিক না বেঠিক?’। রসাত্মক মিম, ট্রল কিংবা খোঁচা দেওয়ার মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে সংলাপটি মুহূর্তেই নেটিজেনদের নজর কাড়ে এবং রীতিমত ট্রেন্ড বনে যায়। সাধারণ ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও তারকারাও মেতেছেন এই ট্রেন্ডে। কিন্তু কোথা থেকে এলো এই সংলাপ? কে এই রহস্যময় ব্যক্তি?
রোববার (১৭ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একটি ভিডিও। যেখানে দেখা যায়, শহরের এক ব্যস্ত রাস্তার পাশে কাঁধে ঝোলা নেওয়া এক গণক সুঠাম দেহের এক যুবকের ভাগ্য গণনা করছেন। যুবকের জীবনের নানা অতীত-ভবিষ্যতের বর্ণনা দেওয়ার পাশাপাশি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে প্রতিটি বাক্যের শেষে তিনি জিজ্ঞাসা করছেন- ‘রাগ করলা?’। ব্যস, এই বিশেষ বাচনভঙ্গি আর চোখের ইশারা মুহূর্তেই লুফে নেয় নেটদুনিয়া। এমনকি বিভিন্ন সরকারি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও এই টেমপ্লেটে মিম শেয়ার করে ট্রেন্ডে গা ভাসিয়েছেন।
তবে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই নেটিজেনদের মনে বড় প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছিল- ভিডিওর এই ব্যক্তি কি আসলেই কোনো গণক?
জানা গেছে, তিনি কোনো পেশাদার কবিরাজ নন, বরং একজন পুরোদস্তুর অভিনেতা। তার নাম ঈমান আলী।
একটি সাক্ষাৎকারে ঈমান আলী বলেন "আমি পেশাদার কবিরাজ নই। অভিনয়ের মাধ্যমে আমি চরিত্রটাকে ফুটিয়ে তুলেছি মাত্র। অনেকেই হয়তো সত্যি সত্যি আমাকে কবিরাজ ভেবে ভুল করছেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি আসলে একটি স্ক্রিপ্টেড অভিনয় ছিল, যা শুধুমাত্র বিনোদনের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।"
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২৫ বছর আগে ভাগ্য অন্বেষণে সপরিবারে লালমনিরহাট থেকে গাজীপুরে পাড়ি জমান ঈমান আলী। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি তীব্র ঝোঁক ছিল তার। সময়ের পরিক্রমায় সেই শখটাই এখন তার পেশা।
বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অভিনয় করেই জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। বিভিন্ন নাট্যদল ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সাথে যুক্ত হয়ে নিয়মিত সামাজিক সচেতনতামূলক এবং হাস্যরসাত্মক ভিডিওতে কাজ করেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি একটি ইউটিউব কনটেন্টের জন্য কবিরাজের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ঈমান আলী।
অনেক ক্ষেত্রেই ছোট, সহজে অনুকরণযোগ্য এবং মজার সংলাপগুলো ভার্চুয়াল দুনিয়ায় খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ঈমান আলীর এই সংলাপটিও ঠিক সেই কারণেই সাধারণ মানুষের মুখে মুখে জায়গা করে নিয়েছে।
বিনোদনের উদ্দেশ্যে তৈরি একটি সাধারণ নাটকের দৃশ্য যে এভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রধান ট্রেন্ডে পরিণত হবে, তা হয়তো খোদ ঈমান আলীও ভাবেননি। তবে নেটিজেনদের এই ভালোবাসা উপভোগ করছেন এই গুণী অভিনেতা।
