

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রোজা অবস্থায় ধূমপান (সিগারেট, বিড়ি, হুক্কা) বা ভ্যাপ (Vape) নিলে রোজা ভেঙে যাবে। কারণ ধোঁয়ার মাধ্যমে শরীরের ভেতরে নির্দিষ্ট বস্তু (নিকোটিন ও অন্যান্য কেমিক্যাল) প্রবেশ করে, যা খাওয়া–পান করার অন্তর্ভুক্ত।
ইসলামী মূলনীতি
রোজা ভেঙে যায় যদি, ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ বা নাক দিয়ে কোনো কিছু পেটে বা শরীরের ভেতরে প্রবেশ করানো হয়।
আরও পড়ুনঃ গত বছরের কাজা রোজা আদায় না করে নতুন রোজা রাখা যাবে কি?
ধূমপান ও ভ্যাপ উভয় ক্ষেত্রেই, ধোঁয়া ইচ্ছাকৃতভাবে টেনে নেওয়া হয়
তা গলা ও ফুসফুস হয়ে শরীরের ভেতরে যায়, এতে স্বাদ ও উপাদান প্রবেশ করে
এ কারণে সব আলেমের মতে ধূমপান ও ভ্যাপ রোজা ভঙ্গকারী।
ভ্যাপ কি সিগারেটের মতোই?
অনেকে মনে করে ভ্যাপ শুধু বাষ্প, তাই রোজা ভাঙে না। এটি ভুল ধারণা। ভ্যাপে থাকে নিকোটিন ফ্লেভার কেমিক্যাল তরল
যা বাষ্প হয়ে শরীরে প্রবেশ করে। তাই ভ্যাপ নিলেও রোজা ভেঙে যাবে। ইচ্ছাকৃতভাবে নিলে কী হবে
আরও পড়ুনঃ ফিদইয়ার টাকা কি একসাথে দেওয়া যায় নাকি প্রতিদিন দিতে হয়?
যদি কেউ জেনে-বুঝে রোজা অবস্থায় ধূমপান বা ভ্যাপ নেয়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে।
শুধু কাজা নয়, কাফফারাও ওয়াজিব হবে (হানাফি মাজহাব অনুযায়ী)
কাফফারার নিয়ম
একটানা ৬০ দিন রোজা রাখা । যদি তা সম্ভব না হয়, ৬০ জন মিসকিনকে খাবার খাওয়ানো ভুলে বা অনিচ্ছায় হলে, যদি ভুলে ধূমপান করে ফেলে (যেমন অভ্যাসবশত),
তবে রোজা ভেঙে যাবে শুধু কাজা ওয়াজিব হবে, কাফফারা হবে না তবে ভুল বুঝতে পারার সাথে সাথে সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করতে হবে।
রোজা না থাকলেও ধূমপানের হুকুম
ধূমপান নিজেই শরিয়তের দৃষ্টিতে ক্ষতিকর ও নিন্দনীয় কাজ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “নিজেদেরকে ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করো না।” সূরা বাকারা: ১৯৫
আরও পড়ুনঃ রোজা রেখে ইউটিউব বা ফেসবুকে ভিডিও দেখলে কি গুনাহ হবে?
এ কারণে অনেক আলেম ধূমপানকে হারাম বা অন্তত কঠোরভাবে মাকরুহ বলেছেন। রোজার সময় এ গুনাহ আরও মারাত্মক হয়।
রোজা অবস্থায় ধূমপান বা ভ্যাপ নিলে রোজা ভেঙে যাবে। ইচ্ছাকৃত হলে কাজা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব। ভুলে হলে শুধু কাজা ওয়াজিব।
রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো নফসকে সংযত করা, তাই এ সময় ধূমপান ও ভ্যাপ পরিহার করা সবচেয়ে জরুরি।
মন্তব্য করুন

