

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রোজা শুধু না খাওয়া–না পান করার নাম নয়; বরং চোখ, কান, জিহ্বা ও মনকেও গুনাহ থেকে সংযত রাখার ইবাদত।
তাই রোজা রেখে ইউটিউব বা ফেসবুকে ভিডিও দেখা নিজে নিজে হারাম নয়, কিন্তু কী ধরনের ভিডিও দেখা হচ্ছে তার ওপর গুনাহ বা সওয়াব নির্ভর করে।
যদি ভালো ও উপকারী ভিডিও দেখা হয়
আরও পড়ুনঃ মৃত ব্যক্তির কাজা রোজা কি অন্য কেউ রেখে দিতে পারবে?
ইসলামী আলোচনা কুরআন তিলাওয়াত নসিহত বা দ্বীনি শিক্ষা জ্ঞানমূলক বা প্রয়োজনীয় তথ্য
এসব ভিডিও দেখা জায়েজ এবং এতে গুনাহ নেই। বরং নিয়ত ভালো হলে সওয়াবও হতে পারে।
যদি অশ্লীল বা গুনাহের ভিডিও দেখা হয় নাচ-গান অশ্লীল দৃশ্য বেহায়াপনা নারী-পুরুষের অনৈতিক কনটেন্ট ফাহেশা বা হারাম বিষয়বস্তু
আরও পড়ুনঃ গত বছরের কাজা রোজা আদায় না করে নতুন রোজা রাখা যাবে কি?
এগুলো দেখা সব সময়ই গুনাহ, রোজা থাকুক বা না থাকুক। তবে রোজা অবস্থায় এসব দেখা আরও বেশি গুনাহের কারণ হয় এবং রোজার সওয়াব নষ্ট করে দেয়।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ পরিত্যাগ করে না, আল্লাহর কাছে তার পানাহার ত্যাগ করার কোনো প্রয়োজন নেই।” সহিহ বুখারি
অর্থাৎ রোজা রেখে যদি চোখ ও আচরণ গুনাহে লিপ্ত থাকে, তাহলে রোজার আসল উদ্দেশ্য পূরণ হয় না।
রোজা কি ভেঙে যাবে?
ইউটিউব বা ফেসবুকে ভিডিও দেখার কারণে রোজা ভেঙে যায় না, যতক্ষণ না খাওয়া-পান করা বা যৌন সম্পর্কের মতো রোজা ভঙ্গকারী কাজ করা হয়।
কিন্তু অশ্লীল ভিডিও দেখলে রোজা ভাঙবে না, তবে বড় গুনাহ হবে এবং রোজার সওয়াব কমে যাবে বা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
চোখের গুনাহ সম্পর্কে কুরআনের নির্দেশ
আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
“মুমিনদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে।” সূরা নূর: ৩০
আরও পড়ুনঃ ফিদইয়ার টাকা কি একসাথে দেওয়া যায় নাকি প্রতিদিন দিতে হয়?
এই আয়াত সব সময়ের জন্য, বিশেষ করে রোজার সময় আরও বেশি প্রযোজ্য।
রোজাদারের করণীয়
রোজা অবস্থায় সময় কাটানো উচিত কুরআন তিলাওয়াত জিকির ও দোয়া ইসলামী আলোচনা শোনা উপকারী জ্ঞান অর্জন
এতে রোজার সওয়াব বৃদ্ধি পায় এবং মন গুনাহ থেকে দূরে থাকে।
রোজা রেখে ইউটিউব বা ফেসবুক দেখা নিজে নিজে গুনাহ নয়। ভালো ও উপকারী ভিডিও দেখলে গুনাহ নেই।
অশ্লীল বা হারাম ভিডিও দেখলে গুনাহ হবে এবং রোজার সওয়াব নষ্ট হবে। রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো শুধু না খাওয়া নয়, বরং চোখ-কান-জিহ্বাসহ সব অঙ্গকে গুনাহ থেকে রক্ষা করা।
মন্তব্য করুন

