

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রমজানের ফরজ রোজা ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙে ফেলা গুরুতর গুনাহ। শুধু কাজা আদায় করলেই যথেষ্ট নয়; নির্দিষ্ট শর্তে কাফফারা আদায় করাও ফরজ হয়ে যায়।
ইসলামী শরিয়তে কাফফারার বিধান খুব স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।
কোন ক্ষেত্রে কাফফারা ওয়াজিব হয়
নিম্নোক্ত শর্তগুলো একসাথে হলে কাফফারা ফরজ হবে—
আরও পড়ুনঃ প্লেনে ভ্রমণের সময় ইফতার কখন করবেন?
রমজানের ফরজ রোজা হতে হবে
রোজা ভাঙা ইচ্ছাকৃত হতে হবে
খাওয়া, পান করা বা স্ত্রী সহবাসের মাধ্যমে রোজা ভাঙতে হবে
কোনো শরয়ি ওজর (যেমন অসুস্থতা, সফর, ভুলে খাওয়া) না থাকতে হবে
যদি কেউ ভুলে খায়, জোরপূর্বক খাওয়ানো হয়, বা অসুস্থতার কারণে রোজা ভাঙে—তাহলে কাফফারা নয়, শুধু কাজা ওয়াজিব হবে।
কাফফারার মূল হাদিস
এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বললেন, “আমি রোজা অবস্থায় স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছি।”
আরও পড়ুনঃ ভিন্ন দেশে গেলে সেহরি ও ইফতারের সময় কীভাবে নির্ধারণ করবেন?
তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে কাফফারা আদায়ের তিনটি পদ্ধতির কথা বলেন। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
কাফফারা আদায়ের তিনটি ধাপ (ক্রম অনুসারে)
প্রথম ধাপ: একজন দাস মুক্ত করা
বর্তমান সময়ে দাসপ্রথা না থাকায় এই পদ্ধতি কার্যত প্রযোজ্য নয়।
দ্বিতীয় ধাপ: একটানা ৬০ দিন রোজা রাখা
যদি দাস মুক্ত করার সুযোগ না থাকে, তবে লাগাতার ৬০ দিন রোজা রাখতে হবে।
এই ৬০ দিনের মধ্যে কোনো দিন বিনা ওজরে রোজা ভাঙলে আবার নতুন করে ৬০ দিন শুরু করতে হবে। মাঝখানে নারীদের হায়েজ বা নেফাস হলে বিরতি বৈধ, এরপর আবার গণনা চলবে।
তৃতীয় ধাপ: ৬০ জন মিসকিনকে খাবার খাওয়ানো
যদি শারীরিকভাবে ৬০ দিন রোজা রাখা সম্ভব না হয় (অসুস্থতা, বার্ধক্য), তবে ৬০ জন দরিদ্রকে দুই বেলা পেটভরে খাবার দিতে হবে
বা প্রত্যেককে সদকাতুল ফিতরের সমপরিমাণ খাদ্য বা তার মূল্য দিতে হবে।
একাধিক রোজা ভাঙলে কাফফারা কতবার
এক দিনে একাধিকবার রোজা ভাঙলেও একটি কাফফারাই যথেষ্ট।
কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন দিনে ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভাঙলে প্রতিটি দিনের জন্য আলাদা কাফফারা আদায় করতে হবে।
কাজা ও কাফফারার পার্থক্য
কাজা মানে একটি রোজার বদলে আরেকটি রোজা রাখা।
কাফফারা মানে শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ, যা গুরুতর অপরাধের কারণে ফরজ হয়। যার ওপর কাফফারা ফরজ হয়েছে, তার জন্য কাজা + কাফফারা উভয়ই আদায় করতে হবে। তওবা করা জরুরি
কাফফারা আদায়ের পাশাপাশি খাঁটি তওবা করা ফরজ।
আরও পড়ুনঃ রোজা রেখে সাঁতার কাটা বা নদীতে গোসল করা যাবে কি?
আল্লাহর কাছে লজ্জিত হয়ে ক্ষমা চাইতে হবে এবং ভবিষ্যতে আর এমন কাজ না করার দৃঢ় সংকল্প করতে হবে।
কারণ রোজা ভাঙা শুধু শরীরের নয়, ইমানের পরীক্ষাও।
সংক্ষিপ্ত সিদ্ধান্ত
ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভাঙলে কাজা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব।
কাফফারার মূল পদ্ধতি হলো টানা ৬০ দিন রোজা রাখা।
অক্ষম হলে ৬০ জন দরিদ্রকে খাবার খাওয়াতে হবে।
এর সাথে আন্তরিক তওবা করা অপরিহার্য।
রমজানের রোজা আল্লাহর ফরজ বিধান। ইচ্ছাকৃতভাবে তা ভেঙে ফেলা মারাত্মক গুনাহ। শরিয়ত এজন্য কঠিন কাফফারা নির্ধারণ করেছে, যাতে মানুষ এ অপরাধ থেকে দূরে থাকে।
তাই যার দ্বারা এমন ভুল হয়ে গেছে, সে যেন দ্রুত কাজা, কাফফারা ও তওবার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ফিরে আসে।
মন্তব্য করুন

