

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে সারা দেশে পোস্টাল ভোট গণনা শুরু হবে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, পোস্টাল ভোট গণনার স্থান নির্ধারণ করে দেবেন সংশ্লিষ্ট আসনের রিটার্নিং অফিসার। ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইসির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, পোস্টাল ভোটের জন্য প্রতিটি সংসদীয় আসনে একজন করে মোট ৩০০ জন প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগ দিয়েছে ইসি। এ ভোট গণনার সময় রাজনৈতিক দল মনোনীত একজন করে পোলিং এজেন্ট উপস্থিত থাকতে পারবেন।
তাদের উপস্থিতিতেই পোস্টাল ভোটের সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে। স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে পোস্টাল ভোট গণনায় সব বিধিবিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে।
ইসি জানিয়েছে, পোস্টাল ভোটের গোপনীয়তা সর্বোচ্চভাবে রক্ষা করা হবে। পুরো প্রক্রিয়া বিএনসিসির তদারকিতে থাকবে এবং কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ থাকবে না। কারণ কোনো ব্যক্তি, কর্মকর্তা বা সংস্থার পক্ষে ভোটারের পরিচয়ের সঙ্গে ভোট মিলিয়ে দেখার সুযোগ নেই।
এ প্রসঙ্গে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, পোস্টাল ব্যালট গণনার পুরো প্রক্রিয়াই এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে কোনো অবস্থায়ই ভোটারের পরিচয়ের সঙ্গে তার ভোট মিলিয়ে দেখার সুযোগ না থাকে।
তিনি বলেন, গণনার সময় প্রথমে প্রতিটি খাম থেকে অঙ্গীকারনামা (ঘোষণাপত্র) ও ব্যালট আলাদা করা হবে। যেসব অঙ্গীকারনামায় ভোটারের স্বাক্ষর পাওয়া যাবে, সেগুলো এক পাশে রাখা হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যালট বৈধ হিসেবে গণনার জন্য সংরক্ষণ করা হবে।
তিনি আরো জানান, বৈধ ব্যালটগুলো পরে খোলা হয়। খাম খুললে ভেতরে থাকা পৃথক রঙের ব্যালট বের হয়, একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এবং অন্যটি গণভোটের। রঙ অনুযায়ী ব্যালটগুলো আলাদা করা হয়।
এ পর্যায়ে এসে অঙ্গীকারনামা, খাম ও ব্যালট পুরোপুরি আলাদা হয়ে যায়। ফলে পরে এগুলো আবার একসঙ্গে মিলিয়ে দেখার বা কোনোভাবে ‘ইন্টিগ্রেট’ করার প্রশ্নই ওঠে না।
তিনি বলেন, ধরা যাক ৫০টি ব্যালট যাচাই করা হলো। ৫০টি ব্যালট কোথা থেকে এসেছে বা কোন ভোটারের ব্যালট, তা পরে আর শনাক্ত করার কোনো উপায় থাকে না।
ভোট গণনার সময় নিরাপত্তা বাহিনী উপস্থিত থাকবে এবং পুরো প্রক্রিয়া পোলিং এজেন্টদের সামনে সম্পন্ন হবে।
ফল সংযোজন
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট প্রথকভাবে গণনা করা হবে। সংসদ নির্বাচনের ব্যালট প্রতীকভিত্তিক ১০০ করে বান্ডেল করা হবে এবং সাধারণ ভোটের ফলের সঙ্গে পোস্টাল ভোট যুক্ত করে চূড়ান্ত ফল প্রস্তুত করা হবে।
পোস্টাল ব্যালট গণনায় সাধারণ ব্যালটের তুলনায় সময় বেশি লাগবে বলে জানিয়েছে ইসি। কারণ, এখানে ঘোষণাপত্র যাচাইসহ একাধিক ধাপ রয়েছে।
বক্স সিল ও স্বচ্ছতা
পোস্টাল ব্যালট বক্সগুলো আগেই পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে সিলগালা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। গণনার সময় বক্সগুলো পোলিং এজেন্টদের সামনেই খোলা হবে।
প্রতিটি বক্সে ব্যবহৃত লক ও লক নম্বর আগেই নোটিস বোর্ডে টাঙনো হয়েছে, যাতে সবাই যাচাই করতে পারে। পুরো প্রক্রিয়া ইসির বিধি অনুযায়ী পরিচালিত হবে। কোথাও অনিয়মের সুযোগ থাকবে না বলে জানিয়েছে ইসি।
পোস্টাল ভোট বিডি প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) ও ইসির অতিরিক্ত সচিব কেএম আলী নেওয়াজ বলেন, ভোটের দিন বিকাল সাড়ে ৪টায় পোস্টাল ব্যালট ও গণভোটের ব্যালট গণনা শুরু হবে। এ গণনা প্রক্রিয়া হবে স্বচ্ছ ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করে।
তিনি বলেন, ভোট গণনার জন্য আলাদা কোনো বুথ থাকবে না। রিটার্নিং অফিসার গণনার স্থান নির্ধারণ করবেন এবং সেখানে প্রিসাইডিং অফিসারের তত্ত্বাবধানে ভোট গণনা হবে।
প্রিসাইডিং অফিসারের অধীন পোলিং অফিসার ও সহায়ক কর্মকর্তারা গণনার কাজ সম্পন্ন করবেন। গণনার সময় প্রতিটি প্রার্থীর জন্য একজন করে পোলিং এজেন্ট উপস্থিত থাকতে পারবেন। তবে বাইরে থেকে কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না।
পোলিং এজেন্টদের পরিচয় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর অনুমোদিত হতে হবে। তারা কোনো মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে রাখতে পারবেন না।
প্রবাসী বাংলাদেশি ও দেশের চার শ্রেণির নাগরিক মিলিয়ে ১৫ লাখের বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধন করেন।
মন্তব্য করুন

