

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভিন্ন দেশে সফর বা বসবাসের সময় সেহরি ও ইফতারের সময় নির্ধারণ নিয়ে অনেকের মনে বিভ্রান্তি থাকে। ইসলামের মূল নীতি হলো—
রোজার সময় নির্ধারণ হবে আপনি বর্তমানে যে স্থানে আছেন, সেই স্থানের সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অনুযায়ী; আগের দেশের সময় অনুযায়ী নয়।
মূল নীতিমালা
আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন,
আরও পড়ুনঃ সফরের বা ভ্রমণের সময় রোজা রাখার বা ভাঙার নিয়ম।
“তোমরা ভোরের সাদা রেখা কালো রেখা থেকে স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত খাও ও পান করো। তারপর রাত পর্যন্ত রোজা পূর্ণ করো।” (সূরা বাকারা: ১৮৭)
এ থেকে বোঝা যায়,
সেহরির শেষ সময় = সুবহে সাদিক (ফজরের সময়) ইফতারের সময় = সূর্যাস্ত (মাগরিবের সময়)
এই সময় নির্ধারণ হবে আপনার বর্তমান অবস্থানের আকাশ ও সময়সূচি অনুযায়ী।
ভিন্ন দেশে পৌঁছালে কীভাবে সময় ধরবেন
যে দেশে বা শহরে অবস্থান করছেন, সেখানকার স্থানীয় নামাজের সময়সূচি বা রমজানের ক্যালেন্ডার অনুসরণ করবেন।
আগের দেশের সেহরি বা ইফতারের সময় অনুসরণ করা যাবে না।
উদাহরণ -
আপনি বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব গেলেন। তখন বাংলাদেশের সময় নয়, সৌদি আরবের মাগরিব ও ফজরের সময় অনুযায়ী সেহরি ও ইফতার করবেন।
আরও পড়ুনঃ কত কিলোমিটার দূরে গেলে কসর নামাজ ও রোজার ছাড় পাওয়া যায়?
আপনি যদি ইউরোপ বা আমেরিকায় যান, সেখানকার সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয় অনুযায়ী রোজা রাখবেন, যদিও সময় অনেক দেরি বা অনেক আগে হতে পারে।
প্লেনে থাকলে সময় কীভাবে ধরবেন
যদি বিমানে থাকা অবস্থায় সেহরি বা ইফতারের সময় হয়, তাহলে আপনার বর্তমান অবস্থানের সূর্য অনুযায়ী সময় নির্ধারণ করবেন।
সূর্য দেখা গেলে, সূর্যাস্ত না হওয়া পর্যন্ত ইফতার করবেন না।
সূর্য দেখা না গেলে, বিমানের স্ক্রিনে দেখানো লোকেশন অনুযায়ী সূর্যাস্তের সময় অনুসরণ করবেন। টাইম জোন পরিবর্তন হলে করণীয়
যদি পশ্চিম দিকে ভ্রমণ করেন, দিন বড় হবে এবং ইফতার দেরিতে হবে। যদি পূর্ব দিকে ভ্রমণ করেন, দিন ছোট হবে এবং দ্রুত ইফতার আসতে পারে।
উভয় ক্ষেত্রেই শরিয়তের বিধান হলো—বর্তমান অবস্থানের সূর্যাস্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করা।
একই দিনে দুইবার ইফতার বা একবারও না হলে কী করবেন
কখনো এমন হতে পারে, আপনি সময় অঞ্চল পরিবর্তনের কারণে এক দিনে দুইবার মাগরিব পান বা একদিন মাগরিবই পান না।
এ ক্ষেত্রে শরিয়তের মূল নিয়ম হলো—প্রতিদিন একটি রোজা পূর্ণ করবেন আপনার অবস্থান অনুযায়ী সূর্যাস্ত পর্যন্ত। অস্বাভাবিক হলে নিকটবর্তী দেশের স্বাভাবিক সময় অনুসরণ করা যেতে পারে।
সফরকারী হলে ছাড়ের বিধান
আপনি যদি শরিয়তের দৃষ্টিতে মুসাফির হন, তাহলে চাইলে রোজা না রেখে পরে কাজা আদায় করতে পারেন।
আরও পড়ুনঃ প্লেনে ভ্রমণের সময় ইফতার কখন করবেন?
কিন্তু যদি রোজা রাখেন, তাহলে সঠিক নিয়মে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
ভুল সময়ে ইফতার বা সেহরি করলে কী হবে
যদি নিশ্চিত হওয়ার আগেই ইফতার করে ফেলেন এবং পরে বোঝা যায় সূর্য তখনও অস্ত যায়নি, তাহলে সেই রোজা শুদ্ধ হবে না এবং পরে একদিন কাজা করতে হবে।
আর যদি ভুল করে ফজরের পর খেয়ে ফেলেন, তবুও কাজা আদায় করতে হবে।
ভিন্ন দেশে গেলে সেহরি ও ইফতারের সময় নির্ধারণ হবে সেই দেশের স্থানীয় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অনুযায়ী। আগের দেশের সময় ধরা যাবে না।
ইসলামের বিধান স্থানভিত্তিক, সময়ভিত্তিক নয়। যেখানে থাকবেন, সেখানকার আকাশ ও সময়সূচিই আপনার রোজার সময় নির্ধারণ করবে।
মন্তব্য করুন

