

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রোজা অবস্থায় গোসল করা বা পানিতে নামা জায়েজ আছে। তবে সাঁতার কাটার ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। কারণ এতে মুখ বা নাক দিয়ে পানি পেটে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা রোজা ভেঙে দিতে পারে।
গোসল করার হুকুম
রোজা রেখে গরম, ধুলাবালি বা শরীর পরিষ্কার করার জন্য নদী, পুকুর বা শাওয়ারে গোসল করা জায়েজ।
রাসূলুল্লাহ (সা.) রোজা অবস্থায় গরম বা পিপাসার কারণে মাথায় পানি ঢালতেন। (সহিহ আবু দাউদ)
আরও পড়ুনঃ কত কিলোমিটার দূরে গেলে কসর নামাজ ও রোজার ছাড় পাওয়া যায়?
অতএব শুধু শরীর ঠান্ডা করা বা পরিচ্ছন্নতার জন্য গোসল করলে রোজার কোনো ক্ষতি নেই। সাঁতার কাটার হুকুম
সাঁতার কাটা মূলত নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু তা মাকরুহ (অপছন্দনীয়) যদি পানির কারণে রোজা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কারণ সাঁতার কাটলে সাধারণত মুখ, নাক বা কানে পানি ঢুকে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
যদি নিশ্চিতভাবে পানি গলায় বা পেটে চলে যায়,তাহলে রোজা ভেঙে যাবে এবং পরে কাজা আদায় করতে হবে।
নাক ও মুখে পানি ঢুকলে কী হবে
ইচ্ছাকৃতভাবে পানি গিলে ফেললে রোজা ভেঙে যাবে।
আরও পড়ুনঃ প্লেনে ভ্রমণের সময় ইফতার কখন করবেন?
অনিচ্ছাকৃতভাবে সাঁতারের সময় পানি পেটে চলে গেলে তবুও রোজা ভেঙে যাবে এবং কাজা ওয়াজিব হবে।
সতর্কতার দিক
রোজা অবস্থায় গভীর পানিতে সাঁতার কাটা থেকে বিরত থাকা উত্তম।
যদি খুব প্রয়োজন হয় (যেমন প্রশিক্ষণ বা জীবন রক্ষার প্রয়োজনে), তবে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে যেন পানি পেটে না যায়।
সংক্ষিপ্ত সিদ্ধান্ত
নদী বা পুকুরে গোসল করা জায়েজ, এতে রোজা নষ্ট হয় না।সাঁতার কাটা ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ এতে রোজা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই তা পরিহার করাই উত্তম।
আরও পড়ুনঃ ভিন্ন দেশে গেলে সেহরি ও ইফতারের সময় কীভাবে নির্ধারণ করবেন?
যদি সাঁতারের সময় পানি পেটে চলে যায়, তাহলে সেই রোজা ভেঙে যাবে এবং পরে কাজা করতে হবে।
রোজা রেখে গোসল করা বৈধ, কিন্তু সাঁতার কাটা থেকে বিরত থাকা নিরাপদ ও উত্তম। ইসলামের মূলনীতি হলো—
যে কাজের মাধ্যমে রোজা নষ্ট হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে, তা পরিহার করাই তাকওয়ার পরিচয়।
মন্তব্য করুন

