

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইসলামে রোজা একটি ফরজ ইবাদত। তবে আল্লাহ তাআলা মানুষের কষ্ট ও দুর্বলতার কথা বিবেচনা করে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছেন।
সফর বা ভ্রমণ অবস্থায় রোজা রাখা বা না রাখার বিষয়ে কুরআন ও হাদিসে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এজন্য একজন মুসলমানের জানা জরুরি—
সফরে রোজা রাখবে নাকি ভাঙবে, এবং ভাঙলে তার করণীয় কী।
কুরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী সফরকারীর জন্য ছাড়-
আরও পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় পেটের বাচ্চার ফিতরা দেওয়া কি জরুরি?
আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন,
“আর যে অসুস্থ হবে অথবা সফরে থাকবে, সে অন্য দিনগুলোতে এ সংখ্যা পূরণ করবে।” (সূরা বাকারা: ১৮৫)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, সফর অবস্থায় রোজা না রাখার অনুমতি আছে এবং পরে কাজা আদায় করতে হবে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত ও সহজ বিধান।
সফরের শরয়ি সীমা কত?
শরিয়তের দৃষ্টিতে সফর বলা হয়, যখন কেউ কমপক্ষে প্রায় ৪৮ মাইল বা ৭৭–৮০ কিলোমিটার দূরত্বে যাওয়ার নিয়ত করে। এই দূরত্ব অতিক্রম করলে সে মুসাফির হিসেবে গণ্য হয় এবং তার জন্য রোজা না রাখার অনুমতি থাকে।
সফরে রোজা রাখা জায়েজ কি না -
সফরে রোজা রাখা জায়েজ এবং অনেক ক্ষেত্রে উত্তমও হতে পারে, যদি তাতে কষ্ট না হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) কখনো সফরে রোজা রেখেছেন, আবার কখনো ভেঙেছেন।
হাদিসে আছে, এক সফরে কিছু সাহাবি রোজা রেখেছিলেন, কিছু ভেঙেছিলেন, এবং রাসূল (সা.) উভয় দলকে নিষেধ করেননি।
আরও পড়ুনঃ ঈদের নামাজের আগে ফিতরা না দিলে কি আদায় হবে?
এতে বোঝা যায়, বিষয়টি পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল।
কখন রোজা রাখা উত্তম
যদি সফর সহজ হয়, যদি শরীরে দুর্বলতা না আসে, যদি কাজকর্মে সমস্যা না হয়, যদি গরম বা শারীরিক কষ্ট না থাকে, এই অবস্থায় রোজা রাখা উত্তম হতে পারে, কারণ এতে পরে কাজার ঝামেলা থাকে না।
কখন রোজা ভাঙা উত্তম-
যদি সফর কষ্টকর হয়, যদি দুর্বলতা বা অসুস্থতার আশঙ্কা থাকে, যদি রোজার কারণে দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে যায়, যদি তীব্র গরম বা দীর্ঘ পথযাত্রা থাকে এই অবস্থায় রোজা না রেখে পরে কাজা করা উত্তম।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“সফরে রোজা রাখা কষ্টের হলে তা নেকি নয়।” (সহিহ মুসলিম)
রোজা ভাঙলে করণীয় যদি কেউ সফরের কারণে রোজা না রাখে বা ভেঙে ফেলে, তাহলে তাকে পরে সেই রোজার কাজা আদায় করতে হবে। এতে কোনো কাফফারা নেই, শুধু একটি রোজার বদলে একটি রোজা কাজা করলেই যথেষ্ট।
রোজা ভাঙার সময় কখন থেকে ছাড় প্রযোজ্য
যদি কেউ ভোরে নিজ শহরে থাকে এবং রোজা রেখে বের হয়, পরে সফরে যায়, তাহলে সে চাইলে সফরের সময় রোজা ভাঙতে পারে।
আর যদি কেউ সুবহে সাদিকের আগে সফরের নিয়ত করে রওনা হয়ে যায়, তাহলে শুরু থেকেই সে রোজা না রাখার সুযোগ পাবে।
আরও পড়ুনঃ শাড়ি-লুঙ্গি দিয়ে জাকাত দেওয়া কি উত্তম নাকি নগদ টাকা?
সফর শেষ হলে কী করতে হবে
যখন কেউ নিজ বাড়ি বা স্থায়ী বসবাসের স্থানে ফিরে আসে এবং সেখানে ১৫ দিন বা তার বেশি থাকার নিয়ত করে, তখন সে আর মুসাফির থাকবে না। তখন তার জন্য রোজা রাখা আবার ফরজ হয়ে যাবে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক দিক-
সফরের ছাড়কে অজুহাত বানিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা না রাখা ঠিক নয়। যদি বাস্তব কষ্ট না থাকে, তবে রোজা রাখাই বেশি সওয়াবের কাজ।
আল্লাহ তাআলা সহজ বিধান দিয়েছেন, কিন্তু অপব্যবহার করতে বলেননি।
সফরের সময় রোজা রাখা বা ভাঙা দুটোই শরিয়তসম্মত। যদি কষ্ট না হয়, তাহলে রোজা রাখা উত্তম। আর যদি কষ্ট, দুর্বলতা বা অসুবিধা হয়, তাহলে রোজা না রেখে পরে কাজা আদায় করা উত্তম।
ইসলামের মূল লক্ষ্য হলো মানুষের ওপর কষ্ট চাপানো নয়, বরং সহজ ও কল্যাণকর ইবাদতের পথ দেখানো।
মন্তব্য করুন

