সোমবার
১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গর্ভাবস্থায় পেটের বাচ্চার ফিতরা দেওয়া কি জরুরি?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:০৯ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

ফিতরা বা সদকাতুল ফিতর প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ওয়াজিব, যদি সে ঈদের দিন ও রাতের মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়। তবে প্রশ্ন হলো—

যে শিশু এখনো জন্ম নেয়নি, অর্থাৎ মায়ের পেটে আছে, তার জন্য কি আলাদা করে ফিতরা দেওয়া জরুরি?

ইসলামী শরিয়তের মূল নীতি হলো, ফিতরা ওয়াজিব হয় জীবিত মুসলমান ব্যক্তির ওপর। যে ব্যক্তি ঈদের দিনের ফজরের সময় জীবিত থাকে, তার ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব হয়।

আরও পড়ুনঃ ব্যাংকে জমানো টাকার জাকাত দেওয়ার নিয়ম।

কিন্তু যে শিশু এখনো জন্মগ্রহণ করেনি, সে শরিয়তের দৃষ্টিতে পূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে গণ্য হয় না। তাই অধিকাংশ আলেমের মতে, গর্ভস্থ সন্তানের জন্য ফিতরা দেওয়া ফরজ বা ওয়াজিব নয়।

হাদিস ও সাহাবায়ে কেরামের আমল থেকেও বোঝা যায়, ফিতরা জীবিত ব্যক্তি হিসেবেই আদায় করা হতো। নবী (সা.)-এর সময় এবং সাহাবিদের যুগে কোথাও বাধ্যতামূলকভাবে গর্ভস্থ সন্তানের ফিতরা দেওয়ার নির্দেশ পাওয়া যায় না।

এজন্য ফিকহের বড় বড় ইমামগণ বলেছেন, মায়ের পেটে থাকা সন্তানের জন্য ফিতরা দেওয়া আবশ্যক নয়।

তবে কিছু আলেমের মতে, যদি কেউ নফল সদকা হিসেবে গর্ভস্থ সন্তানের পক্ষ থেকে ফিতরা দিতে চায়, তাহলে তা জায়েজ এবং সওয়াবের কাজ হবে।

আরও পড়ুনঃ জাকাতের টাকা দিয়ে কি মসজিদ বা মাদ্রাসা নির্মাণ করা যাবে?

এটি ফরজ বা ওয়াজিব নয়, বরং ঐচ্ছিক দান হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ কেউ দিলে ভালো, না দিলে কোনো গুনাহ হবে না।

এখানে আরেকটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া জরুরি। যদি শিশুটি ঈদের ফজরের আগে জন্ম নেয়, তাহলে সে জীবিত ব্যক্তি হিসেবে গণ্য হবে এবং তার ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব হবে।

কিন্তু যদি ঈদের নামাজের পরে বা ঈদের দিনের ফজরের পর জন্ম নেয়, তাহলে তার ওপর ওই বছরের ফিতরা ওয়াজিব হবে না, বরং পরের বছর থেকে তার ফিতরা দিতে হবে।

বাবার দায়িত্ব হলো নিজের ফিতরা এবং নিজের অধীনস্থ ছোট সন্তানদের ফিতরা আদায় করা।

কিন্তু গর্ভস্থ সন্তান এখনো শরিয়তের দৃষ্টিতে অধীনস্থ ব্যক্তি হিসেবে গণ্য হয় না। তাই তার জন্য আলাদা ফিতরা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।

ফিতরার মূল উদ্দেশ্য হলো রোজাদারের রোজাকে পরিশুদ্ধ করা এবং দরিদ্র মানুষকে ঈদের আনন্দে শরিক করা। এই উদ্দেশ্য জীবিত ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

আরও পড়ুনঃ ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ওপর কি জাকাত ফরজ?

গর্ভস্থ শিশুর ওপর এখনো রোজা বা ইবাদতের দায়িত্ব আরোপ হয়নি, তাই তার নামে ফিতরাও বাধ্যতামূলক হয়নি।

অনেকে সামাজিক বা পারিবারিকভাবে বলেন, “পেটে বাচ্চা আছে, তার জন্যও ফিতরা দিতে হবে।” এটি ধর্মীয়ভাবে বাধ্যতামূলক কথা নয়,

বরং নফল দানের উৎসাহ হিসেবে বলা হয়ে থাকে। শরিয়তের হুকুম হিসেবে একে জরুরি বলা সঠিক নয়।

উপসংহার হিসেবে বলা যায়, গর্ভাবস্থায় মায়ের পেটে থাকা সন্তানের জন্য ফিতরা দেওয়া জরুরি নয় এবং তা ওয়াজিবও নয়। তবে কেউ চাইলে নফল সদকা হিসেবে দিতে পারে, এতে সওয়াব হবে।

আর যদি শিশু ঈদের ফজরের আগে জন্মগ্রহণ করে, তখন তার ফিতরা দেওয়া অবশ্যই আদায় করতে হবে। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী বিষয়টি বোঝা এবং অপ্রয়োজনীয় কড়াকড়ি না করাই সঠিক পথ।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Spain VS Cape Verde
Scheduled
15 Jun, 10:00 PM
VS
World Cup