

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রমজান মাস কেবল ক্ষুধা ও তৃষ্ণা রাখার নয়, বরং মানুষের আত্মাকে শক্তিশালী করা, মনকে শান্ত রাখা এবং আল্লাহর প্রতি ভরসা বাড়ানোর মাস।
অনেক সময় ব্যক্তি দৈনন্দিন জীবনের চাপ, দুশ্চিন্তা বা মানসিক ক্লান্তির কারণে হতাশ অনুভব করতে পারেন।
ইসলামে এমন পরিস্থিতির জন্য বিশেষ দোয়া ও আমল রয়েছে যা রমজানে আরও বেশি ফজিলত অর্জন করে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোনো দুশ্চিন্তা বা মন খারাপের সময় আল্লাহর কাছে দোয়া করে, আল্লাহ তাকে তাৎক্ষণিক শান্তি প্রদান করেন।” (সহিহ তিরমিজি, হাদিস ৩৫৬৫)
আরও পড়ুনঃ আয়না দেখার দোয়া: রোজা অবস্থায় সাজগোজের সময় যা পড়বেন।
এটি প্রমাণ করে, দুশ্চিন্তা বা হতাশার মধ্যে দোয়া আল্লাহর কাছে আত্মবিশ্বাস ও ভরসা বৃদ্ধির এক শক্তিশালী মাধ্যম।
রমজানে দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ কমানোর জন্য একটি বিশেষ দোয়া হলো— اللّهُمَّ إني أعوذ بك من الهم والحزن وأعوذ بك من العجز والكسل وأعوذ بك من الجبن والبخل وأعوذ بك من غلبة الدين وقهر الرجال
বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাজান, আউজুবিকা মিনাল অ‘জ্জি ওয়াল কাসল, আউজুবিকা মিনাল জুবন ওয়াল বুখল, আউজুবিকা মিন গালাবাতিদ দিন ওয়াকহরির রিজাল।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি দুশ্চিন্তা ও হতাশা থেকে তোমার আশ্রয় চাই। আমি অলসতা ও দুর্বলতা থেকে, ভীতুতা ও লোভ থেকে, ঋণ ও মানুষের অত্যাচার থেকে তোমার আশ্রয় চাই।
আরও পড়ুনঃ নতুন কাপড় পরার দোয়া: ঈদের কেনাকাটার পর যা পড়া সুন্নাত।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যে ব্যক্তি সকালে এই দোয়া পড়ে, আল্লাহ তার দিনটিকে শান্তিময় ও মঙ্গলময় করে দেন। একইভাবে, রাতে এই দোয়া পড়লে রাতের মানসিক চাপ কমে এবং ঘুম শান্ত হয়।
রমজানের দিনে এই দোয়া বিশেষভাবে ফজিলতপ্রদ, কারণ রোজাদার হৃদয় চরম সংযমে থাকে এবং আল্লাহর স্মরণ আরও সহজে হৃদয়ে গড়ে ওঠে।
দুশ্চিন্তা কমানোর আরেকটি নববী পদ্ধতি হলো আস্তাগফার ও জিকির। রাসূলুল্লাহ ﷺ প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় ১০ বার “আস্তাগফিরুল্লাহ” পড়ার সুপারিশ করেছিলেন।
বিশেষ করে রমজানে এ কাজ করলে, দুশ্চিন্তা, হতাশা ও অভিমান কমে যায়। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “সত্যিই যারা (সঠিকভাবে) আল্লাহকে স্মরণ করে, তাদের মন শান্ত হয়।” (সূরা রাদ: ২৮)
রমজানে দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ দূর করতে আরও কিছু পদ্ধতি রয়েছে ১. নামাজে খুঁটিনাটি মনোযোগ দেওয়া। ২. কুরআন পাঠ ও অর্থ বোঝার চেষ্টা করা। ৩. ব্যক্তিগত দোয়া ও অন্তরের আবেগ প্রকাশ করা। ৪. সহজ ও স্বাস্থ্যকর সেহরি ও ইফতার খাওয়া।
আরও পড়ুনঃ রাগ কমানোর দোয়া: রোজা রেখে মেজাজ খারাপ হলে যা পড়বেন।
সবশেষে বলা যায়, দুশ্চিন্তা ও ডিপ্রেশন শুধু মানসিক সমস্যা নয়, বরং আল্লাহর স্মরণে ঘাটতি হলে বাড়ে। রমজান মাসে দোয়া, জিকির ও তওবা মানুষের হৃদয়কে শক্তিশালী করে, মনকে শান্ত করে এবং দুশ্চিন্তামুক্ত রাখে।
তাই রোজাদারদের উচিত—রোজার প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর স্মরণ, দোয়া ও ধৈর্যের সঙ্গে কাটানো। এই বিশেষ দোয়া পড়ার মাধ্যমে মানুষ রমজানকে কেবল ক্ষুধা-তৃষ্ণা সামলানোর মাস নয়,
বরং শান্তি, মানসিক শক্তি ও আত্মিক প্রশান্তি অর্জনের মাস হিসেবে উদযাপন করতে পারে।
মন্তব্য করুন

