

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এ আসন থেকে তিনি ৬বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ বিহীন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি শক্ত প্রার্থী। এবার তাঁর ঘাঁটি দখলে মরিয়া বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) প্রার্থী মুহা. নিজামুল হক। তিনি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হয়ে ফুলকপি প্রতীকে নির্বাচন করছেন।
এ আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও প্রবীণ রাজনীতিবিদ মেজর হাফিজের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী নিজামুল হক। নবীন-প্রবীণের এ লড়াই বেশ জমবে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা। সাংগঠনিক শক্তি কাজে লাগিয়ে বিজয়ী হতে চান ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. মোসলেহ উদ্দীনও। অন্য দুই প্রার্থী হলেন জাতীয় পার্টির মো. কামাল উদ্দীন ও গণঅধিকার পরিষদের মো. আবু তৈয়ব।
মেজর হাফিজ এ আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়ে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও জয় পান। ১৯৯২ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ’৯৬ সালের ষষ্ঠ ও সপ্তম সংসদ নির্বাচনেও জয়ী হন তিনি। খালেদা জিয়ার সরকারে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী ও পানিসম্পদমন্ত্রী ছিলেন। ২০০১ সালেও নির্বাচিত হন। এরপর আসনটি আওয়ামী লীগের নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের দখলে ছিল।
৮১ বছর বয়সী হাফিজ উদ্দিন আহমদ প্রচারের শুরু থেকেই ছুটছেন নির্বাচনী এলাকার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। নদীভাঙনে নিঃস্ব পরিবারের পুনর্বাসন আর অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করতে সপ্তমবারের মতো নির্বাচিত হতে চান তিনি। গত মঙ্গলবার তজুমদ্দিনে নির্বাচনী সভায় তিনি বলেন, ‘১০ হাজার লোককে বিনা পয়সায় জমি দিয়েছি। এবার নির্বাচিত হলে চরের খাসজমি আপনাদের মাঝে বিতরণ করব।’ গতকাল লালমোহনে এক সভায় এলাকার স্বার্থে দল বিবেচনা না করে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ছাত্রশিবিরের রাজনীতি করা নিজামুল হক এখন বিডিপির জেনারেল সেক্রেটারি। ২০২২ সালে দলটি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। মেজর হাফিজের দুর্গে নিজেদের শক্ত অবস্থান গড়তে নিজামুলের হয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীরা নির্বাচনী মাঠে তৎপরতা চালাচ্ছেন।
চাঁদাবাজি-দুর্নীতিমুক্ত বৈষম্যহীন সমাজ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সংসদে যেতে চান নিজামুল হক। তিনি জানান, নির্বাচিত হয়ে সংসদে গেলে নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা ও নদীভাঙনমুক্ত নিরাপদ উপকূল প্রতিষ্ঠা করবেন। অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা খাত ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্ব দেবেন।
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মোসলেহ উদ্দীন সংগঠনের ভোলা দক্ষিণের সহসভাপতি। ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের সঙ্গে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোসলেহ উদ্দীন জানান, ২০১৪ সাল থেকে তিনি ভোলা-৩ আসনে রাজনীতি করছেন। সেখানে তাঁর দলের সাংগঠনিক অবস্থা ভালো। তিনি বলেন, ‘ভোটারদের কাছ থেকে যথেষ্ট সাড়া পাচ্ছি।’ সাধারণ মানুষের পাশাপাশি কওমি মাদ্রাসা, তাবলিগ জামায়াত, হেফাজতসহ বিভিন্ন ইসলামী সংগঠন তাঁকে সমর্থন করছে।
জাতীয় পার্টির (এরশাদ) প্রার্থী কামাল উদ্দিন মাদ্রাসা শিক্ষক। আগেও তিনি দলটির হয়ে নির্বাচন করেছেন। এবার মাঠে তাঁকে এখনও তেমন দেখা যায়নি। কামাল উদ্দীন জানান, আজ ২৯ জানুয়ারি থেকে প্রচারে নামবেন।
গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ও জেলা সভাপতি আবু তৈয়ব অনেক আগে থেকে প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি জানান, তারুণ্যনির্ভর রাষ্ট্র গঠনের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন তারা। ভোটাররাও তাদের ভালোভাবে গ্রহণ করছেন।
মন্তব্য করুন

