শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাগ কমানোর দোয়া: রোজা রেখে মেজাজ খারাপ হলে যা পড়বেন

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫২ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

রমজান মাস শুধু ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করার নয়, বরং আত্মসংযম, ধৈর্য ও মেজাজ নিয়ন্ত্রণের মাস। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “যে ব্যক্তি রোজা রাখে, সে শুধু ক্ষুধা ও তৃষ্ণা থেকে রোজা রাখে না, বরং মন্দ কথা ও কাজ থেকেও রোজা রাখে।” (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

অর্থাৎ, রোজা মানুষের মেজাজ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। কিন্তু কখনো কখনো রোজাদারও ক্ষুধা, তৃষ্ণা বা মানসিক চাপের কারণে রাগ অনুভব করতে পারে। ইসলামে এমন পরিস্থিতির জন্যও বিশেষ দোয়া ও আমল নির্দেশ রয়েছে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছিলেন, “যদি কেউ রাগান্বিত হয়, তখন সে দাঁড়িয়ে থাকুক বা বসুক, তবে হাত তুলে বলুক: ‘আউজুবিল্লাহি মিনাশ শয়তানির ররাজিম’।”

আরও পড়ুনঃ রোজার সব দোয়া: বাংলা উচ্চারণসহ

অর্থাৎ, “আমি শয়তান লাঞ্ছিতের আশ্রয় চাই।” এটি রাগ নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি নববী পদ্ধতি। কারণ রাগ মূর্খতা ও অহংকারকে উদ্দীপিত করে এবং রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্যকে নষ্ট করে।

রাগ কমানোর জন্য বিশেষ দোয়া হলো— اللّهُمَّ اصْرِفْ عَنِّي غَضَبِي وَاجْعَلْ قَلْبِي رَاحِمًا وَصَبُورًا

বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আসরিফ আন্নি গাদাবি ওয়া জ‘আল কালবি রাহিমান ওয়া সোবুরান।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমার রাগ সরিয়ে দিন এবং আমার অন্তরকে দয়া ও ধৈর্যশীল করুন। রোজার সময় এই দোয়া পড়া বিশেষ গুরুত্ব রাখে। কারণ রোজা শুধু ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সামলানোর নাম নয়, বরং মানুষের হৃদয়কে নরম করার মাস।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, “রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে—ইফতারের সময় এবং তার রাগ নিয়ন্ত্রণে আল্লাহর সন্তুষ্টি।” (সহিহ মুসলিম) অর্থাৎ, রাগ নিয়ন্ত্রণ করাটাও রোজার ফজিলতের অংশ।

এছাড়া, শিশু ও বড় সবাইকে শেখানো উচিত—রাগ লাগলে চুপ করা, শান্ত থাকা এবং আল্লাহর স্মরণ করা। রাগের সময় কেবল শব্দ উচ্চারণ করলেই হবে না, অন্তরে সত্যিকারের অনুশোচনা ও ধৈর্য থাকতে হবে।

যেভাবে রাসূলুল্লাহ ﷺ হালকা রাগান্বিত হলেও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতেন, সেই আদর্শ অনুসরণ করা উচিত।

আরও পড়ুনঃ আয়না দেখার দোয়া: রোজা অবস্থায় সাজগোজের সময় যা পড়বেন।

রাগ কমানোর জন্য আরও একটি নববী পদ্ধতি হলো—হাত ধরা বা পানি দিয়ে মুখ ধোয়া। হাদিসে এসেছে, রাগান্বিত অবস্থায় যদি কেউ হাত মুখ ধোয়, বা কয়েক মুহূর্তের জন্য স্থির থাকে এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করে, তাহলে রাগ কমে যায় এবং শয়তানের প্ররোচনা দূর হয়।

রোজা রাখার সময় মেজাজ খারাপ হলে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা সবচেয়ে কার্যকর। যেমন: اللّهُمَّ اجعلني هادئًا واغفر لي خطئي وبارك لي في صبري

বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা জ‘আলনি হাদি’ান ওগফির লি খাতই ওয়া বারিক লি ফি সোবরি।

আরও পড়ুনঃ নতুন কাপড় পরার দোয়া: ঈদের কেনাকাটার পর যা পড়া সুন্নাত।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমাকে শান্ত রাখুন, আমার ভুল ক্ষমা করুন এবং আমার ধৈর্যকে বরকত দিন।

সবশেষে বলা যায়, রোজার মাসে মেজাজ নিয়ন্ত্রণই একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। রাগান্বিত হলে দোয়া, ধ্যান ও আল্লাহর স্মরণই মানুষের মন শান্ত করতে পারে। নববী ﷺ-এর নির্দেশ অনুযায়ী, রাগ কমানোর জন্য দোয়া পড়া, অন্তরে ধৈর্য রাখা

এবং শয়তানের প্ররোচনার থেকে নিজেকে রক্ষা করা রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য পূরণ করে। ফলে, রমজান কেবল ক্ষুধা-তৃষ্ণা সামলানোর মাস নয়, বরং আত্মসংযম, শান্তি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাসেও পরিণত হয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X