

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইসলামে প্রতিদিনের ছোট ছোট কাজের জন্যও দোয়া ও আদব নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে একজন মুসলমান তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে ইবাদতে পরিণত করতে পারে।
আয়নায় নিজের চেহারা দেখা একটি সাধারণ কাজ হলেও রাসূলুল্লাহ ﷺ এই কাজের সময়ও আল্লাহকে স্মরণ করার দোয়া শিখিয়েছেন।
বিশেষ করে রমজান মাসে, যখন একজন রোজাদার নিজেকে পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করে, তখন আয়না দেখার দোয়াটি পড়া আত্মশুদ্ধি ও কৃতজ্ঞতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে।
রোজা অবস্থায় সাজগোজ করা জায়েজ, তবে তা যেন অহংকার, অপচয় বা গুনাহের দিকে না নিয়ে যায়—এই শিক্ষা ইসলামে স্পষ্টভাবে দেওয়া হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ আয়নায় তাকালে যে দোয়াটি পড়তেন তা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী ﷺ আয়নায় তাকিয়ে বলতেন, “আল্লাহুম্মা কামা হাসসানতা খালকি ফাহাসসিন খুলুকি।”
আরও পড়ুনঃ ছোট বাচ্চাদের রোজার নিয়ত ও ইফতারের দোয়া শেখানোর সহজ উপায়।
অর্থাৎ, হে আল্লাহ, আপনি যেমন আমার বাহ্যিক রূপ সুন্দর করেছেন, তেমনি আমার চরিত্রকেও সুন্দর করে দিন। এই হাদিসটি ইমাম বায়হাকি ও তাবরানী বর্ণনা করেছেন এবং বহু মুহাদ্দিস এটিকে হাসান হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
এই দোয়াটি প্রমাণ করে, ইসলাম বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে আভ্যন্তরীণ চরিত্রের সৌন্দর্যকে বেশি গুরুত্ব দেয়।
রোজা অবস্থায় আয়না দেখা বা নিজেকে পরিপাটি করা নিষিদ্ধ নয়। বরং পরিচ্ছন্নতা ও শালীনতা ইসলামের অংশ। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্যকে ভালোবাসেন।”
এই হাদিসটি মুসলিম শরিফে বর্ণিত হয়েছে। তবে সৌন্দর্যের এই চর্চা যেন অহংকার, লোক দেখানো বা গুনাহের দিকে না যায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
রমজান মাসে একজন রোজাদারের উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, তাই সাজগোজও হতে হবে সংযম ও শালীনতার সঙ্গে।
আরও পড়ুনঃ রোজার সব দোয়া: বাংলা উচ্চারণসহ
আয়না দেখার দোয়ার একটি বড় শিক্ষা হলো আত্মসমালোচনা। মানুষ আয়নায় নিজের বাহ্যিক চেহারা দেখে, কিন্তু এই দোয়ার মাধ্যমে সে নিজের ভেতরের অবস্থাও আল্লাহর কাছে সঁপে দেয়।
রোজা শুধু ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করার নাম নয়; বরং চরিত্র সংশোধনের একটি প্রশিক্ষণ। তাই আয়নায় তাকিয়ে এই দোয়া পড়া একজন রোজাদারকে মনে করিয়ে দেয় যে, শুধু চেহারা সুন্দর হলেই যথেষ্ট নয়, বরং অন্তর, কথা ও আচরণও সুন্দর হওয়া প্রয়োজন।
রমজান মাসে অনেকেই ইফতার বা তারাবির জন্য নিজেকে পরিপাটি করেন। এই সময়ে আয়না দেখার দোয়া পড়লে সেই কাজটিও ইবাদতে পরিণত হয়।
দোয়ার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর কাছে এই প্রার্থনা করে যে, বাহ্যিক সাজগোজের সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ যেন তাকে উত্তম চরিত্রের অধিকারী বানান।
কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “নিশ্চয়ই সফল সে, যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করেছে।” এই আয়াত সূরা শামস, আয়াত ৯-এ এসেছে। এই পরিশুদ্ধতা শুধু শরীরের নয়, বরং অন্তরেরও।
রোজা অবস্থায় সাজগোজ করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নিয়ত। যদি উদ্দেশ্য হয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, পরিবার বা জামাতে নামাজের জন্য সুন্দরভাবে প্রস্তুত হওয়া, তাহলে তা নেক আমলের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ রমজানের সেরা ১০টি দোয়ার কালেকশন।
কিন্তু যদি উদ্দেশ্য হয় মানুষকে দেখানো বা অহংকার করা, তাহলে তা রোজার মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী হয়ে যায়। রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের শিখিয়েছেন, সব কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। তাই আয়না দেখার সময় এই দোয়াটি পড়া নিয়তকে শুদ্ধ করার একটি মাধ্যমও বটে।
এই দোয়া শিশুদের শেখানোও অত্যন্ত উপকারী। ছোটবেলা থেকেই যদি তারা আয়নায় তাকিয়ে আল্লাহকে স্মরণ করার অভ্যাস গড়ে তোলে,
তাহলে তাদের জীবনে আল্লাহভীতি ও চরিত্রগঠনের বীজ রোপিত হয়। এতে তারা বুঝতে শেখে যে, সৌন্দর্য আল্লাহর দান এবং এর সঙ্গে দায়িত্বও জড়িত।
সবশেষে বলা যায়, আয়না দেখার দোয়া শুধু একটি বাক্য নয়, বরং একটি দৃষ্টিভঙ্গি। এটি আমাদের শেখায় যে, বাহ্যিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি অন্তরের সৌন্দর্য অর্জন করাই একজন মুমিনের লক্ষ্য।
রোজা অবস্থায় সাজগোজ করার সময় এই দোয়া পড়লে মানুষ অহংকার থেকে বেঁচে থাকে এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হয়।
তাই রমজান মাসে প্রতিবার আয়নায় তাকানোর সময় এই নববী দোয়াটি পড়ার অভ্যাস করলে আমাদের দৈনন্দিন কাজও ইবাদতে পরিণত হবে এবং রোজার প্রকৃত শিক্ষা আমাদের জীবনে প্রতিফলিত হবে।
মন্তব্য করুন

