শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন কাপড় পরার দোয়া: ঈদের কেনাকাটার পর যা পড়া সুন্নাত

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

ঈদ মুসলমানদের জন্য আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও ইবাদতের দিন। ঈদের দিনে নতুন কাপড় পরা সুন্নাত এবং এটি ইসলামের সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতার একটি নিদর্শন।

তবে ইসলাম শুধু বাহ্যিক সাজগোজের দিকেই গুরুত্ব দেয়নি, বরং এই কাজের সঙ্গেও আল্লাহকে স্মরণ করার শিক্ষা দিয়েছে।

নতুন কাপড় পরার সময় দোয়া পড়া রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর সুন্নাত, যা আমাদেরকে অহংকার থেকে বাঁচায় এবং আল্লাহর নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে শেখায়।

ঈদের কেনাকাটার পর নতুন পোশাক পরার মুহূর্তে এই দোয়া পড়লে সাধারণ একটি কাজও ইবাদতে পরিণত হয়।

হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন নতুন কাপড় পরতেন, তখন আল্লাহর প্রশংসা করতেন এবং দোয়া পড়তেন। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত,

আরও পড়ুনঃ রমজানের সেরা ১০টি দোয়ার কালেকশন।

তিনি বলেন, নবী ﷺ যখন নতুন পোশাক পরতেন—চাদর হোক বা জামা—তিনি বলতেন, “আল্লাহুম্মা লাকাল হামদু আনতা কাসাওতানিহি, আসআলুকা খাইরাহু ওয়া খাইরা মা সুনিয়া লাহু, ওয়া আউজুবিকা মিন শাররিহি ওয়া শাররি মা সুনিয়া লাহু।”

অর্থাৎ, হে আল্লাহ, সমস্ত প্রশংসা তোমারই, তুমি আমাকে এই পোশাক পরিধান করিয়েছ। আমি তোমার কাছে এর কল্যাণ

এবং যে উদ্দেশ্যে এটি বানানো হয়েছে তার কল্যাণ চাই এবং আমি এর অকল্যাণ ও যে উদ্দেশ্যে এটি বানানো হয়েছে তার অকল্যাণ থেকে তোমার আশ্রয় চাই।

এই হাদিসটি ইমাম আবু দাউদ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং মুহাদ্দিসগণ একে হাসান হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

এই দোয়ার মাধ্যমে একজন মুমিন আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের স্বীকৃতি দেয়। নতুন কাপড় মানুষকে আনন্দ দেয়, আত্মসম্মান বাড়ায় এবং সামাজিকভাবে পরিচ্ছন্নতা প্রকাশ করে।

কিন্তু ইসলাম আমাদের শেখায়, এই আনন্দ যেন অহংকারে পরিণত না হয়। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ অহংকারীদের পছন্দ করেন না।”

সূরা লুকমানের এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, নতুন পোশাক পরলেও হৃদয়ে বিনয় থাকা জরুরি। নতুন কাপড়ের দোয়া মূলত এই বিনয় ও কৃতজ্ঞতার শিক্ষাই দেয়।

ঈদের দিনে নতুন কাপড় পরা সুন্নাত হওয়ার আরেকটি কারণ হলো মুসলমানদের পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর রূপে আল্লাহর ইবাদতের জন্য উপস্থিত হওয়া। রাসূলুল্লাহ ﷺ ঈদের নামাজের জন্য উত্তম পোশাক পরতেন।

আরও পড়ুনঃ রোজার সব দোয়া: বাংলা উচ্চারণসহ

হাদিসে বর্ণিত আছে, তাঁর একটি বিশেষ জুব্বা ছিল, যা তিনি ঈদ ও জুমার দিন পরিধান করতেন। এটি প্রমাণ করে যে, ঈদের সাজগোজ ইবাদতের অংশ, তবে তা হতে হবে সংযম ও শালীনতার সঙ্গে।

নতুন কাপড় পরার দোয়া পড়লে এই সাজগোজের সঙ্গে আল্লাহর স্মরণ যুক্ত হয়। এই দোয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো কাপড়ের উদ্দেশ্যকে কল্যাণের সঙ্গে যুক্ত করা।

দোয়ায় বলা হয়, “এর কল্যাণ চাই এবং এর অকল্যাণ থেকে আশ্রয় চাই।” অর্থাৎ, এই কাপড় যেন অহংকার, অপচয় বা গুনাহের কারণ না হয়। বরং এটি যেন শালীনতা, লজ্জাশীলতা ও আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যম হয়—এই কামনাই একজন মুমিন করে।

আজকের সমাজে অনেক সময় নতুন পোশাক প্রদর্শন ও প্রতিযোগিতার বস্তু হয়ে যায়। এই দোয়া আমাদেরকে মনে করিয়ে দেয় যে, পোশাকের আসল উদ্দেশ্য হলো শরীর ঢেকে রাখা এবং আল্লাহর দেওয়া নিয়ামত ব্যবহার করে কৃতজ্ঞ হওয়া।

নতুন কাপড় পরার দোয়া শিশুদের শেখানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঈদের আনন্দের সঙ্গে যদি তাদের এই সুন্নাত শেখানো যায়

তবে তারা ছোটবেলা থেকেই বুঝবে যে, আনন্দের মাঝেও আল্লাহকে স্মরণ করতে হয়। এতে তাদের জীবনে কৃতজ্ঞতা ও বিনয়ের গুণ তৈরি হবে।

আরও পড়ুনঃ আয়না দেখার দোয়া: রোজা অবস্থায় সাজগোজের সময় যা পড়বেন।

সবশেষে বলা যায়, নতুন কাপড় পরার দোয়া শুধু একটি মুখস্থ বাক্য নয়, বরং এটি একটি মানসিকতা।

ঈদের কেনাকাটার পর যখন একজন মুসলমান নতুন পোশাক পরে এই দোয়া পড়ে, তখন সে আল্লাহর নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং নিজেকে অহংকার থেকে রক্ষা করে।

ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য হলো আল্লাহর আনুগত্য ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে আনন্দ উদযাপন করা। তাই নতুন কাপড় পরার সময় এই সুন্নাত দোয়াটি পড়া আমাদের ঈদের আনন্দকে আরও বরকতময় করে তোলে এবং আমাদের জীবনকে নববী আদর্শের সঙ্গে যুক্ত করে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X