শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদুল ফিতরের দিনের বিশেষ দোয়া ও জিকির (তাকবীরে তাশরিক)

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৩২ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহর জন্য এক আনন্দঘন ও কৃতজ্ঞতার দিন। এক মাস সিয়াম সাধনার পর এই দিন আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য পুরস্কার ও রহমতের দ্বার উন্মুক্ত করে দেন। ঈদের দিন শুধু আনন্দ-উৎসবের জন্য নয়; বরং এটি আল্লাহর স্মরণ, দোয়া ও জিকিরের মাধ্যমেও অতিবাহিত করার দিন।

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ঈদের দিনে কিছু বিশেষ দোয়া ও জিকির রয়েছে, যেগুলো আদায় করলে এই দিনের বরকত আরও বৃদ্ধি পায়।

ঈদের দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিকির হলো তাকবীর পাঠ করা। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “তিনি তোমাদের পথনির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা তাঁর মহিমা ঘোষণা করো।” আলেমগণ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, রমজানের পর ঈদের দিন আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করা বলতে তাকবীর পাঠ করাকেই বোঝানো হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ কুরআন খতম দেওয়ার পর যে দোয়া পড়তে হয় (খতমে কুরআনের দোয়া)।

ঈদুল ফিতরের তাকবীর সূর্যাস্তের পর থেকে ঈদের নামাজ শুরু হওয়া পর্যন্ত পাঠ করা সুন্নত। এই তাকবীরকে সাধারণভাবে তাকবীরে ঈদ বলা হয়।

ঈদের তাকবীরের প্রচলিত শব্দগুলো হলো: “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।” এই তাকবীর পাঠের মাধ্যমে একজন মুসলমান প্রকাশ করে যে, আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ এবং যাবতীয় প্রশংসা একমাত্র তাঁরই জন্য।

সাহাবায়ে কেরাম ঈদের দিনগুলোতে বাজারে, রাস্তায় ও ঘরে ঘরে তাকবীর উচ্চারণ করতেন, যাতে পুরো সমাজ আল্লাহর জিকিরে মুখরিত হয়ে ওঠে।

অনেক সময় ঈদুল ফিতরের সঙ্গে তাকবীরে তাশরিক শব্দটি উল্লেখ করা হয়। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন। তাকবীরে তাশরিক মূলত ঈদুল আজহার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এটি আরাফার দিন ফজরের নামাজ থেকে শুরু করে ১৩ জিলহজের আসরের নামাজ পর্যন্ত ফরজ নামাজের পর পড়া ওয়াজিব।

আরও পড়ুনঃ সিজদায়ে তিলাওয়াত: কুরআনের সিজদার আয়াতে কী দোয়া পড়তে হয়?

ঈদুল ফিতরে তাকবীরে তাশরিক ওয়াজিব বা সুন্নত নয়। তবে ঈদুল ফিতরের দিন তাকবীর পাঠ করা সুন্নত এবং অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। তাই ঈদুল ফিতরের ক্ষেত্রে সঠিক পরিভাষা হলো ঈদের তাকবীর, তাশরিকের তাকবীর নয়। এই পার্থক্য জানা থাকা জরুরি, যাতে ইবাদতে ভুল ধারণা না থাকে।

ঈদের দিনে দোয়ার গুরুত্বও অপরিসীম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদের দিন বিশেষ কোনো নির্দিষ্ট দোয়া নির্ধারণ করে দেননি; তবে সাধারণ দোয়া, শুকরিয়া ও কল্যাণ কামনার দোয়া এই দিনে পড়া অত্যন্ত উত্তম। ঈদের নামাজের আগে ও পরে আল্লাহর কাছে দোয়া করা যায়।

আলেমগণ বলেন, ঈদের দিন বান্দা যখন আনন্দের সঙ্গে আল্লাহর প্রশংসা করে, তখন তার দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ আশা করা যায়।

ঈদের দিনে বেশি বেশি পড়ার জন্য কুরআন ও হাদিস থেকে প্রমাণিত দোয়াগুলোর মধ্যে রয়েছে আল্লাহর প্রশংসা ও দরুদ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা ও আমার ওপর দরুদ পাঠ করে দোয়া শুরু করে, তার দোয়া কবুলের বেশি উপযুক্ত হয়। তাই ঈদের দিনে দোয়ার শুরুতে আলহামদুলিল্লাহ বলা এবং নবীজির ওপর দরুদ পাঠ করা উত্তম আমল।

আরও পড়ুনঃ ঈদের নামাজের তাকবীরে তাহরিমা ও ছানা পড়ার নিয়ম।

ঈদের দিন গুনাহ মাফ ও রহমত লাভের জন্য ইস্তেগফার করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রমজান শেষে ঈদের দিনে বান্দা আল্লাহর কাছে এই আবেদন করতে পারে—হে আল্লাহ, তুমি যে রোজা ও ইবাদতের তাওফিক দিয়েছ, তা কবুল করে নাও এবং আমাদের গুনাহ মাফ করে দাও।

কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন। এই আয়াত ঈদের দিন তাওবা ও ইস্তেগফারের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়।

ঈদের দিন আল্লাহর জিকিরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তাকবীর, তাহলিল ও তাহমিদ। অর্থাৎ আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আলহামদুলিল্লাহ—এই তিনটি জিকির বেশি বেশি পড়া। এগুলো ঈদের আনন্দকে ইবাদতে পরিণত করে। ঈদের খুশি যদি আল্লাহর স্মরণের সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে তা নেক আমলে রূপ নেয়।

সবশেষে বলা যায়, ঈদুল ফিতরের দিন শুধু বাহ্যিক আনন্দের দিন নয়; বরং এটি আল্লাহর শোকর আদায়, তাকবীর পাঠ, দোয়া ও জিকিরের মাধ্যমে আত্মিক আনন্দ অর্জনের দিন। ঈদের তাকবীর, দরুদ, ইস্তেগফার ও সাধারণ দোয়ার মাধ্যমে একজন মুমিন এই দিনটিকে ইবাদতে পরিপূর্ণ করতে পারে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ঈদুল ফিতরের দিনে তাঁর যথাযথ জিকির ও দোয়া করার তাওফিক দান করুন এবং আমাদের রমজানের ইবাদত কবুল করুন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X