মঙ্গলবার
১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভূমধ্যসাগর থেকে ১৫ বাংলাদেশি উদ্ধার, দেশে ফেরানোর উদ্যোগ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

গ্রিসে পৌঁছানোর স্বপ্ন নিয়ে লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগরে নেমেছিলেন ১৫ বাংলাদেশি। সঙ্গে ছিলেন মিশরের আরও ৩২ নাগরিক। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই বিপদে পড়ে তাদের নৌযান। নেভিগেশন ব্যবস্থা না থাকায় দিক হারিয়ে প্রায় দুই দিন সাগরে ঘোরার পর শেষ হয়ে যায় জ্বালানি। এরপর খাবার ও পানীয় জল ছাড়াই রাবারের নৌকায় ভাসতে থাকেন ৪৭ জন।

শেষ পর্যন্ত ডেনমার্কের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ তাদের উদ্ধার করে। পরে মিশরীয় নৌবাহিনীর কাছে তাদের হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে ১৫ বাংলাদেশি মিশরের পোর্ট সাঈদ সিকিউরিটি সেন্টারের হেফাজতে রয়েছেন।

খবর পেয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। সম্প্রতি দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে এবং প্রথম সচিব (শ্রম) মো. জাকির হোসেন পোর্ট সাঈদে যান।

পরে তারা সুয়েজ ক্যানাল কর্তৃপক্ষের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং পোর্ট সাঈদ সিকিউরিটি সেন্টারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এ সময় হেফাজতে থাকা বাংলাদেশিদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তাদের আইনি সহায়তা এবং দেশে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়।

পোর্ট সাঈদ সিকিউরিটি সেন্টারের পুলিশ প্রধান দূতাবাসের কর্মকর্তাদের জানান, ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার হওয়া ১৫ বাংলাদেশি নাগরিক তাদের হেফাজতে রয়েছেন। পরে দূতাবাসের কর্মকর্তারা তাদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে পুরো ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন।

পোর্ট সাঈদ সিকিউরিটি সেন্টারে হেফাজতে থাকা ১৫ বাংলাদেশি নাগরিক হলেন- মুন্সিগঞ্জের মো. শাওন খান, সুনামগঞ্জের মো. সাজুর আহমেদ, সুনামগঞ্জের সুলেমান মিয়া, হবিগঞ্জের মো. সবুজ আহমেদ, হবিগঞ্জের মো. সারওয়ার হোসেন, সুনামগঞ্জের মো. সেলিম হোসেন, ফরিদপুরের মো. সাইম শেখ, কিশোরগঞ্জের মো. তোফায়েল হোসেন, হবিগঞ্জের জয় শেখ, সিলেটের জয়নাল উদ্দিন, হবিগঞ্জের আব্দুল আওয়াল চৌধুরী, সুনামগঞ্জের মো. মেহেদী হাসান, সুনামগঞ্জের মো. মাসুম মিয়া, হবিগঞ্জের মো. শিহাব উদ্দিন এবং তুহিন মিয়া।

জানা গেছে, ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে তারা পৃথকভাবে লিবিয়ায় যান। সেখানে অবস্থানকালে ইউরোপে অনিয়মিতভাবে প্রবেশের উদ্দেশ্যে কেউ কেউ মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আবার অনেকে লিবিয়ার বিভিন্ন মাফিয়া চক্রের হাতে আটক হওয়ার পর তাদের মাধ্যমে সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার উদ্যোগ নেন।

আটক বাংলাদেশিরা জানান, গত ১০ জুলাই দিবাগত রাতে মিশরীয় নাগরিকসহ মোট ৪৭ জন একটি রাবারের নৌকায় করে লিবিয়ার তবরুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। নৌকাটি স্পিডবোটের ইঞ্জিনে চালিত হলেও এতে কোনো নেভিগেশন ব্যবস্থা ছিল না। তাদের জানানো হয়েছিল, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে পৌঁছাতে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা সময় লাগবে।

কিন্তু নেভিগেশন ব্যবস্থা না থাকায় নৌকাটি দিক হারিয়ে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ভূমধ্যসাগরে ঘুরতে থাকে। একপর্যায়ে জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে নৌকাটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে সাগরে ভাসতে থাকে। এভাবে প্রায় দুই দিন তিন রাত পর্যাপ্ত খাবার ও পানীয় জল ছাড়াই সাগরে ভাসতে হয় তাদের। জীবন বাঁচাতে রাতে দূরে কোনো জাহাজের আলো দেখা গেলে মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে সাহায্যের সংকেত দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা।

দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) কাউন্সিলর মো. জাকির হোসেন জানান, মিশরের সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাদের কাছে বৈধ পাসপোর্ট নেই, তাদের দেশে ফেরানোর জন্য দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ট্রাভেল পারমিট (টিপি) ইস্যুর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন