

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সে বেতন ও পারফরম্যান্স বোনাস নিয়ে শ্রমিক-ব্যবস্থাপনা দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করেছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে শ্রমিকদের গণবিক্ষোভের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকের একক প্রতিবাদও এই বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সিউলে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিক অংশ নিয়ে বোনাস কাঠামোর স্বচ্ছতা, ঊর্ধ্বসীমা বাতিল এবং মুনাফায় অংশীদারিত্বের দাবি জানান।
শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্স এর তুলনায় তারা উল্লেখযোগ্যভাবে কম বেতন ও বোনাস পাচ্ছেন।
শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি, কোম্পানির মোট পরিচালন মুনাফার ১৫ শতাংশ বোনাস হিসেবে বরাদ্দ করতে হবে এবং মূল বেতন ৭ শতাংশ বাড়াতে হবে।
অন্যদিকে ব্যবস্থাপনা পক্ষ থেকে ১০ শতাংশ বোনাস প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিক্ষোভকারী শ্রমিকরা বলেন, আজ আমরা শুধু ক্ষোভ জানাতে আসিনি, এসেছি আমাদের অধিকার নিশ্চিত করতে। আমাদের প্রশ্ন একটাই, শ্রমিকের ঘাম আর পরিশ্রমে গড়া এই সাফল্যের প্রকৃত অংশীদার কারা? একদিকে চেয়ারম্যানের শেয়ারের মূল্য ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন উয়ন বাড়ছে, এতে শুধু শীর্ষ কর্মকর্তারাই পাচ্ছেন বিপুল বোনাস, অন্যদিকে আমরা অবহেলিত।’ আরেকজন শ্রমিক জানান, ‘অনেক সহকর্মী এরইমধ্যে এসকে হাইনিক্সে চলে যাচ্ছেন। বেতন ব্যবধান এতটাই বেড়েছে যে এটা কর্মীদের সিদ্ধান্তে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।’
এদিকে ১৫ এপ্রিল সিউলের সিওচো এলাকায় কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ের সামনে এক ব্যক্তির একক প্রতিবাদ নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।
৬০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি শ্রমিক ইউনিয়নের বোনাস দাবিকে “অতিরিক্ত” আখ্যা দিয়ে বলেন, কোম্পানির সাফল্য কেবল কর্মীদের নয়, বরং সমাজের সম্মিলিত অবদানের ফল।
শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, ইউনিয়নের প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে বোনাসের পরিমাণ ৪০ থেকে ৪৫ ট্রিলিয়ন ওনে পৌঁছাতে পারে, যা কোম্পানির বার্ষিক গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয়ের চেয়েও বেশি এবং গত বছরের লভ্যাংশের কয়েকগুণ। এতে প্রায় ৪০ লাখ শেয়ারহোল্ডারের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা, অতিরিক্ত শ্রম ব্যয় বেড়ে গেলে সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) খাতে বিনিয়োগে প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি কোম্পানির বিভিন্ন বিভাগে বেতন-বৈষম্য নতুন করে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বাড়াতে পারে।
এখনো পর্যন্ত শ্রমিক ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে মজুরি ও চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনায় কোনো সমঝোতা হয়নি। দাবি আদায় না হলে আগামী ২১ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত টানা ধর্মঘটে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে শ্রমিক ইউনিয়ন। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ শৃঙ্খলেও প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে আগ্রহী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তেজনা বাড়লেও শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমেই সমঝোতার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
মন্তব্য করুন