

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় জারি থাকা ১৪৪ ধারার কারণে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের উপর হওয়া হামলার অভিযোগ অনলাইনের মাধ্যমে গ্রহণ করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্পে বসেই আগের দিনের হামলার ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করেন দলটির নেতারা।
এর আগে বিকেলে হবিগঞ্জ শহরে ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা জেলার উদ্দেশ্যে রওনা হলে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রথমে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। পরে তারা হবিগঞ্জের দিকে অগ্রসর হলে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া এলাকায় পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের বহর আটকে দেয়। এ সময় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থান নেয় প্রশাসন।
এনসিপির নেতাদের দাবি, আগের দিনের হামলার ঘটনায় তারা হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় সরাসরি অভিযোগ দায়ের করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা কার্যকর থাকায় পুলিশ তাদের শহরে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। দীর্ঘ আলোচনা শেষে কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্প থেকেই অনলাইনের মাধ্যমে অভিযোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশ।
রাত সাড়ে ৮টার দিকে অভিযোগ গ্রহণের সময় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, সারজিস আলম, মাহমুদা মিতু, সারোয়ার তুষারসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাস্থলে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ গ্রহণ শেষে নাহিদ ইসলাম ও নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
পুলিশ জানায়, হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা কার্যকর থাকায় জনসমাবেশ, মিছিল ও শোভাযাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সম্ভাব্য সংঘর্ষ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় এনসিপির নেতাকর্মীদের শহরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তবে অভিযোগ গ্রহণের বিষয়ে আইনি কোনো বাধা না থাকায় অনলাইনের মাধ্যমে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের টাউন হল এলাকায় পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সাংবাদিকসহ এনসিপির কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করে এনসিপি।
এদিকে এনসিপির বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি. এম. সরফরাজ হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেন। আদেশ অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পৌর এলাকার নির্ধারিত স্থানে পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েত, সভা-সমাবেশ, মিছিল, বিক্ষোভ ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ থাকবে। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে এমন কোনো বস্তু বহনেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে এনসিপি নেতারা জানিয়েছেন, হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।