

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গণমাধ্যম সমাজের চতুর্থ স্তম্ভ। একটি স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমই সমাজকে সজাগ রাখে এবং মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনে। বলেছেন, বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘মিডিয়াকে সমাজের আয়না বলা হয়। আয়নার সামনে দাঁড়ালে যেমন কোনো কিছু আড়াল থাকে না, তেমনি একজন প্রকৃত সাংবাদিকও কোনো তথ্য বিকৃত বা পরিবর্তন না করে মানুষের সামনে সত্য তুলে ধরেন। এ কারণেই সাংবাদিকদের সমাজের বিবেক বলা হয়। মিডিয়া যতদিন জাগ্রত থাকে, একটি সমাজও ততদিন জাগ্রত থাকে। আর বিবেকের মৃত্যু হলে সমাজেরও মৃত্যু ঘটে।’
শনিবার ( ১ আগস্ট) সিলেটের বন্দরবাজারস্থ কুদরত উল্লাহ মসজিদ কমপ্লেক্সে দৈনিক জালালাবাদ পত্রিকার ৩৪ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জালালাবাদ পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে আমি এই পত্রিকার প্রতি একটি অনুরোধ রাখব। আমাদের অঙ্গীকার ছিল— জালালাবাদ কোনো রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র হবে না; এটি হবে জনগণের মুখপাত্র। কোন দল কখন রাষ্ট্রক্ষমতায় আসবে, সেটি আল্লাহ তাআলার ফয়সালা। কিন্তু জালালাবাদকে অবশ্যই নিরপেক্ষ অবস্থান ধরে রাখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এই নীতিগত অবস্থান বজায় রাখতে গিয়ে যদি কোনো রাজনৈতিক দলের রোষানলে পড়তে হয়, তাতেও আপত্তি নেই। এমনকি এ পথে চলতে গিয়ে যদি পত্রিকাটি বন্ধও হয়ে যায়, তবুও নীতির প্রশ্নে যেন কখনো আপস না করা হয়। পত্রিকার পৃষ্ঠাসংখ্যা ছোট হতে পারে, কিন্তু তার সংবাদ অবশ্যই বস্তুনিষ্ঠ হতে হবে এবং জনগণের কথা বলতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে যদি কোনো সংবাদ আমার বিরুদ্ধে যায় কিংবা আমার দলের বিরুদ্ধেও যায়, তবুও জালালাবাদ যেন সত্য প্রকাশে পিছপা না হয়। একটি গণমাধ্যম যখন নির্ভয়ে সত্য তুলে ধরে, তখন মানুষের আস্থা স্বাভাবিকভাবেই তার প্রতি বৃদ্ধি পায়।’
বর্তমান সমাজে পারস্পরিক বিশ্বাসের সংকটের কথা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আজ আমাদের সমাজের সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো আস্থার সংকট। মানুষ মানুষকে বিশ্বাস করতে চায় না। আমি প্রত্যাশা করি, দৈনিক জালালাবাদ তার বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে এই আস্থার সংকট কাটিয়ে উঠতে সমাজকে সহায়তা করবে।’