

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গঠিত জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে অস্থিরতা কিছুতেই কাটছে না। স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং জোটের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে শরিকদের অবমূল্যায়নের অভিযোগকে কেন্দ্র করে একের পর এক শরিক দল জোট থেকে দূরত্ব তৈরি করছে। এরই মধ্যে জোট ছেড়েছে কয়েকটি শরিক দল।
তবে এমন পরিস্থিতিতেও জোট ছেড়ে যাচ্ছে না জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির শীর্ষ পর্যায়ে জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চললেও এখনই জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত হয়নি বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে জোটের অন্যতম শরিক এনসিপির ভেতরেও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে দলটির নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ মনে করছে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জোটে থেকেই সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানো এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া বেশি কার্যকর হবে। ফলে অন্তত আপাতত জোটে থাকার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে দলটি।
এনসিপি নেতারা এনপিবি নিউজকে জানান, এনসিপির ৫১ সদস্যের নির্বাহী কমিটি হলো সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পরিষদ। যে কোনো সিদ্ধান্ত এই পরিষদে অনুমোদন হলেই বাস্তবায়ন হবে এনসিপিতে। জামায়াত জোট ছাড়ার বিষয়ে কোনো ধরনের সামান্যতম আলোচনাও এই ফোরামে হয়নি। জুলাই পদযাত্রা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন এনসিপি নেতারা। অন্যদিকে ১১ দলীয় জোটেরও চলছে কর্মসূচি। এমতাবস্থায় জোট ছাড়ার আলোচনা একটি অপ্রাসঙ্গিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চটুল আলাপ। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন জোটবদ্ধভাবে হবে নাকি দলীয়ভাবে একক সিদ্ধান্তে হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তফসিল ঘোষণা হলে সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ১১ দলীয় জোট এনসিপি না ছাড়লেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতকে চাপে রাখার কৌশল এঁটেছে দলটি। এরই অংশ হিসেবে বিভিন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিপি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতকে চাপে রেখে ঢাকার একটি সিটি এবং গাজীপুর, কুমিল্লা ও সিলেট সিটির মধ্যে একটি নিশ্চিত করতে চায় দলটি। জাতীয় নির্বাচনের পূর্বেই দুটি সিটির বিষয়ে জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির মৌখিক আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে জামায়াত প্রতিটি সিটিতে নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করায় এনসিপির একটি অংশ জোট ছাড়ার পক্ষে মতামত দিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত সিটি নির্বাচনের প্রার্থী নিয়ে সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
১১ দলীয় জোট সূত্র জানায়, আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না দিলেও জোটের সব কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। দলটি গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন-পরবর্তী সময় থেকেই ১১ দলীয় ঐক্যের কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে না। অন্যদিকে আবদুল বাছিত আজাদের নেতৃত্বাধীন খেলাফত মজলিস শুরুতে জোটের কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকলেও সম্প্রতি ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগীয় সমাবেশ বর্জন করে। সর্বশেষ সিলেটের ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশেও অংশ নেয়নি দলটি। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, আপাতত তারা জোটের কোনো কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকবেন না। ফলে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে প্রধান বিরোধী জোট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা এই রাজনৈতিক জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জোটটি গঠিত হলেও আসন বণ্টন নিয়ে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়। এছাড়া জোটের ভবিষ্যৎ কাঠামো, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে শরিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমুখী অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নেজামে ইসলাম পার্টিসহ আরও দু-একটি দল জোট ছাড়ার বিষয়ে ভাবছে। একই সঙ্গে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতৃত্বে কওমি মাদ্রাসার ঘরানার সাতটি দলকে নিয়ে জোট গঠনের উদ্যোগও রাজনীতিতে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
গত শনিবার অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার তৃতীয় সাধারণ অধিবেশনে খেলাফত মজলিস আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, এখন থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের সব ধরনের কর্মসূচি থেকে বিরত থাকবে দলটি। বৈঠক শেষে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১১ দলীয় ঐক্য মূলত একটি নির্বাচনী সমঝোতা ছিল। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর সেই সমঝোতার কার্যকারিতা বাস্তবে শেষ হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে দেশ, জাতি ও ইসলামের স্বার্থে বৃহত্তর কোনো রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়োজন হলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
এর আগে গত ১৩ জুন চট্টগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশের পর খেলাফত মজলিস আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানায়, ভবিষ্যতে কোনো সমাবেশের ব্যানার বা প্রচারণায় তাদের দল কিংবা নেতাদের নাম ব্যবহার না করার।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এনপিবি নিউজকে বলেন, এনসিপি জামায়াত জোট ছেড়ে যাবে এমন কোনো আলোচনা হয়নি। আর কয়েকটি দল জামায়াত জোট ছেড়েছে, এমন খবরও সত্য নয়। একটি দলের কিছু লোক চলে গেলেও তাদের একটি অংশ এখনও রয়েছে। আর কেউ যদি কর্মসূচিতে অংশ না নেয়, তার মানে তো এমন নয় যে তারা জোটে নেই। কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া না নেওয়ার স্বাধীনতা তাদের রয়েছে।