

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নেত্রকোনায় ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় নজরুল ইসলাম নামে এক জামায়াত নেতাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে নেত্রকোনা সদর আমলী আদালতে হাজির হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম প্রদীপ এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নজরুল ইসলাম সদর উপজেলার কয়ড়া গ্রামের নাইব উদ্দিনের ছেলে। তিনি সদর উপজেলার বাংলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলা ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক সভাপতি মশিউর রহমান। তিনি বলেন, আদালত আজ তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। তবে মামলার বিষয়ে বিস্তারিত জানি না। শুনেছি, তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ ছিল।
মামলার আসামিদের মধ্যে আরও রয়েছেন একই এলাকার আ. হেকিমসহ তিনজন। মামলার বাদী মো. রুবেল রানা কয়ড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ‘মেসার্স সন্ধি ট্রেডার্স’ নামে বালু, পাথর ও কয়লার ব্যবসা পরিচালনা করেন।
আদালতে দাখিল করা অভিযোগে রুবেল রানা উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় জুতার ব্যবসার পাশাপাশি নেত্রকোনায় বালু, পাথর ও কয়লার ব্যবসা করে আসছেন। অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৭ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জেলা শহরের অজহর রোড এলাকায় রুবেল রানা তার প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার ও গাড়িচালককে সঙ্গে নিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে একদল ব্যক্তি তার গাড়ির গতিরোধ করে। পরে তাকে জোরপূর্বক মোক্তারপাড়া মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নজরুল ইসলামসহ কয়েকজন তার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় এবং তার পকেটে থাকা ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। যাওয়ার সময় বাকি টাকা না দিলে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়।
মামলার এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার পরদিন নজরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে বাদীর প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারকে হুমকি দেন। এ ছাড়া ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী একটি প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ঘটনার আংশিক ফুটেজ ধারণ হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম প্রদীপ বলেন, আদালত আসামি নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী চলবে।
