

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, জুলাই এমন একটি মাস, যা এদেশের মানুষের স্মৃতিপট থেকে কখনো হারিয়ে যাবেনা।
আজ ঢাকা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে 'ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণ সভা ও সৃজনশীল শিক্ষার্থী সম্মাননা' অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতাকালে তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট দল আওয়ামী লীগ এদেশকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। এই জুলাই-আগস্ট মাসে আমাদের নবপ্রজন্ম সেখান থেকে দেশকে ফিরিয়ে আনে। শত শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা এই বাংলাদেশকে নতুন করে ফিরে পেয়েছি।
বক্তৃতাকালে মন্ত্রী আরও বলেন, আমাদেরকে শুধুমাত্র গতানুগতিক শিক্ষা গ্রহণের ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। উন্নত বাংলাদেশ গড়তে কারিগরি শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে মানব সম্পদের পরিণত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, সারা বিশ্বে কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ ব্যক্তিদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। প্রবাসী কর্মীরা আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস। তাদেরকে যদি আমরা দক্ষ করে বিদেশে পাঠাতে পারি তাহলে আমাদের অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে। এজন্য কারিগরি শিক্ষায় আরো অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। এ লক্ষ্যে আমরা বাংলাদেশে আরো ৪ টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন করতে যাচ্ছি। এসময় তিনি ঢাকা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটকে একটি মডেল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিক্ষার্থীদের আরো উদ্ভাবনী সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। ভবিষ্যতে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার নিয়ে তাদেরকে কাজ করতে হবে।
ঢাকা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত মহিলা আসন ১৬ এর সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মোঃ আক্কাস আলী, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোঃ রুহুল আমিন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মো: রাকিবুল ইসলাম রাকিব অনুষ্ঠানের মুখ্য আলোচক হিসেবে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ কুমিল্লা সিসিএন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর শিক্ষার্থী শহিদ হামিদুর রহমান মজুমদার (সাদমান) ও কিশোরগঞ্জ সরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী শহিদ সামিদ হোসেনের পরিবারের সদস্যদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। এছাড়া তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ঢাকা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের আহত শিক্ষার্থীদের উত্তরীয় পরিয়ে দেন।
এর আগে মন্ত্রী কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওরিয়েন্টেশন-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। এসময় তিনি বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা 'সেন্টার অব এক্সিলেন্স' হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। ভবিষ্যতে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে উঠবে।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার কারিগর আমাদের শিক্ষার্থীরা। তারা শিক্ষাঙ্গণে যে সময়টা কাটাচ্ছে তা অত্যন্ত মূল্যবান। জীবনের এই সময়টিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। পাশাপাশি, দেশ গড়ার শপথ নিয়ে আগামী দিনে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।