

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ছয় বছরের সুখী দাম্পত্য জীবন আর কোল আলো করে আসা দুই সন্তান- সব মিলিয়ে আপাতদৃষ্টিতে পরিপূরণ আর সুখে ভরা ছিল এই ব্রিটিশ দম্পতির সংসার। কিন্তু একটিমাত্র মেডিক্যাল রিপোর্ট হঠাৎ করেই কালবৈশাখী ঝড় তুলে দিল তাদের জীবনে।
সম্প্রতি চিকিৎসার প্রয়োজনে বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে গিয়ে তারা জানতে পেরেছেন, যাদের তারা এতদিন স্বামী-স্ত্রী হিসেবে জেনে এসেছেন, রক্তের সম্পর্কে তারা আসলে আপন ভাই-বোন।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'দ্য মিরর'-এ এই বিস্ময়কর ও হৃদয়বিদারক ঘটনাটি প্রকাশ পায়, যা ওই দম্পতি নিজেরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছিলেন।
ছোটবেলায় দত্তক নেওয়ার কারণেই মূলত নিজের অজান্তে এই ট্র্যাজিক সত্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে স্বামীটিকে।
জন্মের পরপরই তিনি বাবা-মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান এবং একই শহরের অন্য একটি দম্পতি তাকে দত্তক নেন। ফলে তার জৈবিক পরিবার সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না।
বড় হয়ে তিনি নিজের শহরেরই এক তরুণীর প্রেমে পড়েন এবং পরবর্তীতে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ছয় বছর কেটে যায় এবং তাদের ঘরে দুই সন্তান আসে।
সব ঠিকঠাকই চলছিল, কিন্তু দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর স্ত্রী মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে মোড় নেয় তাদের জীবন।
স্ত্রীকে বাঁচাতে চিকিৎসকেরা জরুরি ভিত্তিতে কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেন। তবে আত্মীয়দের কারও সঙ্গেই রক্ত বা টিস্যুর মিল পাওয়া যাচ্ছিল না। স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে শেষ চেষ্টা হিসেবে স্বামী নিজে পরীক্ষা করান।
সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবারের মানুষ হওয়ায় ম্যাচ করার কথা নয় জেনেও পরীক্ষা করানোর পর পাওয়া ফলায় চিকিৎসকরা স্তম্ভিত হয়ে যান।
এরপর টিস্যু এইচএলএ (HLA) পরীক্ষাতেও দেখা যায়, স্বামী-স্ত্রীর টিস্যুর মিল সাধারণ মানুষের চেয়ে বহু গুণ বেশি, যা কেবল আপন ভাই-বোনদের মধ্যেই সম্ভব। এর মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যায় যে তারা প্রকৃতপক্ষে ভাই-বোন।
এই চরম সত্য জানার পর গভীর মানসিক ট্রমা ও অনিশ্চয়তায় পড়ে যান এই দম্পতি। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, তাদের দুই সন্তানের শরীরে কোনো ধরনের জেনেটিক ব্যাধি বা শারীরিক জটিলতা ধরা পড়েনি।
অবিশ্বাস্য এই পরিস্থিতিতে করণীয় জানতে তারা নেটিজেনদের কাছে পরামর্শ চেয়েছিলেন। সেখানে বেশিরভাগ মানুষই মতামত দিয়েছেন যে, যেহেতু তারা জেনে-বুঝে কিছু করেননি এবং ইতোমধ্যে তাদের দুটি সুস্থ সন্তান রয়েছে, তাই পেছনে ফেরার আর সুযোগ নেই। অতীত ভুলে সন্তানদের জন্য ভালো বাবা-মা হয়েই তাদের সংসার চালিয়ে যাওয়া উচিত।