মঙ্গলবার
১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের বীরত্বের ইতিহাস নেই: রিজভী 

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৬, ০২:১০ পিএম
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ
expand
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ

যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে, আমাদের গেরিলা যুদ্ধে আস্তানা চিনিয়ে দিয়েছে, তাদের কোনো বীরত্বের ইতিহাস নেই তাদের আছে দালালির ইতিহাস, স্বাধীনতার পরেও তারা সুবিধা নিয়েছে আর দালালি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দল আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রিজভী এসব কথা বলেন। পরে সংগঠন দুটির নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে পল্টন গিয়ে শেষ করে।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ছোট ও কলঙ্কিত করার চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ১৯৭১ বাংলাদেশের স্বাধীনতার গৌরবময় অর্জন। এই ইতিহাসকে কোনোভাবেই আন্ডারএস্টিমেট বা খাটো করার সুযোগ নেই।

রিজভী বলেন, ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনা হয়েছে। সেই অর্জনের কারণেই আজ দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারে। রাষ্ট্রভাষা বাংলা, দেশের নাম বাংলাদেশ এবং মানুষ নিজেকে বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দিতে পারে।

একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধারা সীমান্তে যুদ্ধ করেছেন, রক্ত ঝরিয়েছেন। তাদের রক্তমাখা শার্ট আজও বাংলাদেশের মানুষের প্রাণের পতাকা। মুক্তিযুদ্ধের সেই উত্তরসূরিরাই দেশের ইতিহাস ও স্বাধীনতার গৌরব বহন করছেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, একাত্তরের চেতনা মানুষের বুকের মধ্যে ছিল বলেই পরবর্তী সময়ে অধিকার সংকুচিত হওয়ায় এবং কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়ায় নতুন প্রজন্ম রাজপথে নেমেছিল।

সেই ধারাবাহিকতায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান তৈরি হয়েছে। ৭১-এর পথ ধরেই ১৯৯০ সালের আন্দোলন হয়েছে, আবার ‘৭১-এর পথ ধরেই জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকেই নতুন প্রজন্ম অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।

রিজভী বলেন, যারা খুব কৌশলে ১৯৭১ ও জুলাইকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে কোনটি বড় আর কোনটি ছোট তা নির্ধারণের চেষ্টা করছেন, তাদের সে প্রচেষ্টায় কোনো লাভ হবে না। ১৯৭১ বাংলাদেশের জন্য গৌরবের ইতিহাস এবং জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানও সেই দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতার অংশ।

জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইতিহাসকে বিকৃত বা খাটো করার চেষ্টা চলছে।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে যথাযথ মর্যাদা না দিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থে নতুন ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ১৯৭১ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ভিত্তি। সেই ইতিহাসের ওপর দাঁড়িয়েই দেশের পরবর্তী প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছে।

এ সময় জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সিনিয়র সহসভাপতি নজরুল ইসলাম, সহসভাপতি জাহেদুল হক শামীম ও সহসভাপতি ড. কে এম আই মন্টি উপস্থিত ছিলেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন