রবিবার
২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নবীন-প্রবীণ সমন্বয়ে হচ্ছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি

মো. ইলিয়াস
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম
এনপিবি গ্রাফিক্স
expand
এনপিবি গ্রাফিক্স

দীর্ঘ এক দশকেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় কাউন্সিল হয়নি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ঈদুল আজহার পর ৭ম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে পারে।

এদিকে দীর্ঘদিন কাউন্সিল না হওয়ার ফলে দলটির স্থায়ী কমিটির বেশ কিছু পদ নানা কারণে শূণ্য হয়ে পড়েছে। এতে দলের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যাঘাত ঘটছে বলে মনে করছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। দলীয় সূত্র বলছে, কাউন্সিলের পাশাপাশি সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘স্থায়ী কমিটি’র শূন্য পদগুলো পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সবশেষ ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, তিন বছর মেয়াদে জাতীয় নির্বাহী কমিটি গঠনের কথা থাকলেও পরবর্তী কাউন্সিল না হওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে একই কমিটি দায়িত্ব পালন করে আসছে। এতে সাংগঠনিক কার্যক্রমে নানা জটিলতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতি তৈরি হয়েছে বলে দলটির একাধিক নেতা মনে করছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সংখ্য ১৯ জন। ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল শেষে ১৭ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে বার্ধক্য, মৃত্যু, পদত্যাগ ও নিষ্ক্রিয়তার কারণে কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্য দায়িত্বে নেই।

এর মধ্যে ৫ জন মারা গেছেন। তারা হলেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ এবং এম কে আনোয়ার। এছাড়া ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর মারা গেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। অন্যদিকে রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছেন সাবেক সেনা প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান।

বর্তমানে দলটির স্থায়ী কমিটিতে রয়েছেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার (বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ), ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া (গুরুতর অসুস্থ), মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

এদের মধ্যে অসুস্থতার কারণে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রয়েছেন ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া। এছাড়া জমির উদ্দিন সরকারও বার্ধক্যজনিত কারণে অনেকটাই আড়ালে রয়েছেন। এছাড়া কাউন্সিল শেষে রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও।

এদিকে ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট স্থায়ী কমিটির শূন্য পদে তৎকালীন দুইজন ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম ও অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসনকে পদায়ন করা হয়। অবশ্য ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রথম অধিবেশনে গত ১২ মার্চ সংসদের স্পিকার নিযুক্ত হলে দলের সকল ধরনের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

সবমিলিয়ে বর্তমানে দলটির স্থায়ী কমিটিতে ৫টি পদ খালি রয়েছে। এছাড়া বাকি ১৪ সদস্যের অনেকেই বার্ধক্য ও অসুস্থতার কারণে সরাসরি রাজনীতির সাথে যুক্ত নন। এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান কমিটি বেশ কয়েকজনকে বাদ দেওয়া হতে পারে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

দলীয় সূত্র বলছে, আসন্ন কাউন্সিলকে সামনে রেখে ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং যুগ্ম মহাসচিব পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পাওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

আলোচনায় রয়েছেন যারা

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, জয়নুল আবেদীন, মো. শাহজাহান, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আযম খান, নিতাই রায় চৌধুরী, নূরুল ইসলাম মনি, ড. আসাদুজ্জামান রিপন।

উপদেষ্টাদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন, ইসমাইল জবিউল্লাহ, জয়নুল আবদিন ফারুক, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, আরিফুল হক চৌধুরী, খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, জহির উদ্দিন স্বপন, তাহসিনা রুশদীর লুনা।

এছাড়া বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব এবং পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, খায়রুল কবির খোকন, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিনুর রশিদ ইয়াসিন ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।

সূত্র বলছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দল ক্ষমতায় আসার পর সরকার ও দল; দুই ক্ষেত্রেই ভারসাম্য রাখতে নেতৃত্বে নতুনত্ব আনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে বিএনপি।

দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত এই কাউন্সিলের মাধ্যমে দলটি একদিকে যেমন সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হতে চায়, অন্যদিকে নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে রাজনৈতিক কৌশলেও পরিবর্তন আনতে চায়। এখন দেখার বিষয় দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে শেষ পর্যন্ত কারা জায়গা করে নেন।

তবে কাউন্সিলের মাধ্যমে কারা চূড়ান্তভাবে স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পাবেন তা নির্ভর করবে দলীয় চেয়ারম্যানের ওপর। তবে বিএনপির চেয়ারম্যান চাইলে তার ক্ষমতাবলে স্থায়ী কমিটির শূন্য পদসমূহ কাউন্সিলের আগেই পূরণ করতে পারেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন