

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে-স্কেল চূড়ান্ত করার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। চলতি জুন মাসের মধ্যেই এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের শুরু থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এজন্য আসন্ন বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ রাখার প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী বর্তমান ২০টি গ্রেড বহাল থাকবে। তবে প্রতিটি গ্রেডে বেতনের পরিমাণে বড় ধরনের পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবীদের আয়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটবে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা হলেও প্রশমিত হতে পারে।
তবে পুরো কাঠামো একসঙ্গে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের চিন্তাও রয়েছে সরকারের মধ্যে। প্রাথমিক পরিকল্পনায় আগামী ১ জুলাই থেকে মূল বেতনের প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর করা হতে পারে, আর বাকি অংশ পরবর্তী অর্থবছরগুলোতে সমন্বয় করার কথা ভাবা হচ্ছে।
নতুন পে-স্কেলের আওতায় প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগীকেও অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। বিশেষ করে তুলনামূলক কম পেনশনপ্রাপ্ত অবসরভোগীদের জন্য সুবিধা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে পেনশন শতভাগ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ও আলোচনায় আছে।
অন্যদিকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনায় অসন্তোষও দেখা দিয়েছে সরকারি কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে। তাদের দাবি, বর্তমান মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতিতে একবারেই পূর্ণাঙ্গ পে-স্কেল কার্যকর করা উচিত।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বেতন ও পেনশন বৃদ্ধি হলে সরকারি চাকরিজীবীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে, যা বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি করতে পারে। তবে একই সঙ্গে সরকারের ব্যয়ভারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়ে বাজেট ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক গেজেট বা ঘোষণা প্রকাশ করা হয়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে বাজেট ঘোষণা ও সরকারি প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
