

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের নেত্রী প্রীতি চৌধুরীকে নিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস প্রিয়ার ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
প্রীতির রাজনৈতিক অবস্থান ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রিয়ার বক্তব্যের পর পাল্টা জবাব দিয়েছেন প্রীতি।
পরে তার সমর্থনে অবস্থান নিয়েছেন রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাশিকুজ্জামান প্রীতমসহ সংগঠনটির নেতাকর্মী ও একাধিক সাধারণ শিক্ষার্থী।
ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রাজশাহী মহানগর শাখার পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস প্রিয়া ফেসবুকে প্রীতি চৌধুরীর রাজনৈতিক অবস্থান ও অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সঙ্গে প্রীতির অতীত ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ তুলে তাঁকে ‘সুযোগসন্ধানী’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর জবাবে প্রীতি চৌধুরী ফেসবুক পোস্ট দেন। সেখানে তিনি প্রিয়ার বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন। ব্যক্তিগত বিষয়কে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে অভিযোগ করে প্রীতিও প্রিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকা ও মূল্যবোধ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে প্রিয়ার সঙ্গে তার কথোপকথনসংক্রান্ত আরও কিছু স্ক্রিনশট ও তথ্য প্রকাশের ইঙ্গিত দেন তিনি।
প্রীতি চৌধুরী ২০২৪ সালের গণআন্দোলনে রাজশাহী কলেজে আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন বলে তাঁর সমর্থকেরা দাবি করছেন। তাঁকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টও দেওয়া হচ্ছে।
পাল্টাপাল্টি ফেসবুক পোস্টের মধ্যে প্রীতি চৌধুরীর পাশে দাঁড়িয়েছেন রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাশিকুজ্জামান প্রীতমসহ সংগঠনটির অন্য নেতাকর্মীরা।
ফেসবুক পোস্টে রাশিকুজ্জামান প্রীতম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজশাহী কলেজে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে প্রীতি চৌধুরী অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ভয়ভীতি বা ব্যক্তিগত আক্রমণ চালিয়ে কোনো প্রতিবাদী কণ্ঠকে থামানো যাবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রীতি চৌধুরীসহ সব ছাত্রীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষায় তাঁরা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন বলে জানান ছাত্রদলের এই নেতা।
পরবর্তীতে একাধিক নেতাকর্মী ও রাজশাহী কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী প্রীতির সমর্থনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়ে ওঠে। সাইবার বুলিং ও ব্যক্তিগত আক্রমণের নিন্দা জানিয়ে সবার স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিতের দাবি জানান সকলে।
বিষয়টিকে ঘিরে বর্তমানে রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সাইবার চর্চা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।


