

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা ও এমপি গাজী নজরুল ইসলাম এবং দলটির ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা জিসান মিয়া প্রধানের নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এসব ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গতকাল (শুক্রবার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কবি জসিম উদ্দীন হল সংসদে শিবিরের প্যানেল থেকে নির্বাচিত হওয়া জিএস মাসুম আব্দুল্লাহর একটি অপ্রীতিকর ভিডিও চ্যাটিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হয়েছে।
এমতাবস্থায়, সংগঠনের নেতাদের পদস্থলন ও নৈতিক স্থলন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিবিরের প্যানেল থেকে নির্বাচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যকরী সদস্য রায়হান উদ্দীন
তার দাবি, ‘পদস্খলন শুরু হয়েছে একদম উপর থেকে। যাদের কাছে নৈতিকতা সবক শুনে শুনে দায়িত্বশীল ও কর্মীদের চোখের পানি ঝরে একদম তাদের থেকেই।’
তিনি বলছেন, ‘এভাবে চোখের সামনে সংগঠনের দায়িত্বশীলদের নৈতিক অধঃপতন দেখে হৃদয়টা ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। কাদের জন্য আমরা কাবার গিলাফ ধরে দুআ করি! কাদের জন্য আমাদের তাহাজ্জুদের দুআ!’
শনিবার (২২ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
এনপিবি নিউজের পাঠকদের জন্য ডাকসু নেতা রায়হান উদ্দীনের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
“পদস্খলন শুরু হয়েছে একদম উপর থেকে। উপর মানে একদম উপর। যাদের কাছে নৈতিকতা সবক শুনে শুনে দায়িত্বশীল ও কর্মীদের চোখের পানি ঝরে একদম তাদের থেকেই।
কিন্তু, আপনাকে থুথু ফেলতে হবে ঠিকই নিচের দিকে। উপর দিকে থুথু ফেললে নিজের গায়ে এসেই পড়বে। আপনিই কালপ্রিট হয়ে যাবেন। বৃহত্তর স্বার্থে উপর দিকে কোন একশন নেয়া হবে না। কিন্তু, বৃহত্তর ক্ষতিটা ততদিনে হয়ে যায়।
এই প্রিয় কাফেলাকে যারা রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি হাসিলের মাধ্যম বানিয়ে ইচ্ছেমতো কাফেলার ক্ষতি করছে তাদেরকে যেন আল্লাহ পাক লাঞ্চিত করেন। অন্তত কেয়ামতের ময়দানে যেন ২৩৪ জন শহীদের মুখোমুখি করেন।
আর নিজের অপকর্ম সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থেকেও যে বা যারা দায়িত্বশীলদের সামনে বড় বড় নৈতিকতার সবক দেন সেইসব মুনাফিকদের থেকে কাফেলাকে যেন আল্লাহ পাক মুক্তি দান করেন।
ছাত্রশিবির আমাদের আবেগের জায়গা। ব্যক্তিগতভাবে আমি একেবারে নাফরমান হয়ে না গেলে এই কাফেলার ঋণ অস্বীকার করতে পারবো না। আমাকে এই ক্ষুদ্র আমি হিসেবে তৈরি করেছে এই প্রাণপ্রিয় কাফেলা।
কিন্তু, এভাবে চোখের সামনে সংগঠনের দায়িত্বশীলদের নৈতিক অধঃপতন দেখে হৃদয়টা ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। কাদের জন্য আমরা কাবার গিলাফ ধরে দুআ করি! কাদের জন্য আমাদের তাহাজ্জুদের দুআ!
এই বিষয়ে কথা বলার কারণে এবং লেখালেখির কারণে আমি অনেকের অপ্রিয় হয়েছি। আরো হবো। আমি অপ্রিয় হতেই পছন্দ করি। এরজন্য আমার প্রতি সংগঠনের নেতৃবৃন্দের ন্যাগেটিভ ধারণা তৈরি হলেও হোক। কিন্তু, আমি সত্যিই আর নিতে পারছি না। এই কাফেলা অসংখ্য তরুণের মুক্তির ঠিকানা।”


