

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ছাত্রশিবির ও ছাত্রলীগকে একসঙ্গে একসঙ্গে টেনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেছেন, ‘আমরা এটুকু প্রমাণ করেছি যে ছাত্রদল কোনো সন্ত্রাসী সংগঠন নয়। আমরা কখনো শিবির ও ছাত্রলীগের মতো সন্ত্রাসী আচরণ করব না। আমরা কারও চরিত্রহনন করব না।’
মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট) জগন্নাথ ও রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস পরিস্থিতি নিয়ে শিবিরের উদ্দেশে গণমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ছাত্রদলের সভাপতি এসব কথা বলেন।
সহনশীল ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে নেতাকর্মীদের সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে রাকিব বলেন, ‘তারা তাদের রাজনীতি করবে, আমরা আমাদের মতো রাজনীতি করব। কারও বিরুদ্ধে উসকানিমূলক কোনো কর্মকাণ্ডেও জড়াব না। আমরা সহনশীল রাজনীতিতে বিশ্বাস করি।’
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ থাকলেও সহিংসতা, বিদ্বেষ কিংবা উসকানির পথে না গিয়ে আদর্শিক ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির চর্চা করতে হবে। ছাত্রদল সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করে এবং সেই ধারাই ভবিষ্যতেও বজায় রাখবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজসহ অস্থায়ী আবাসন প্রকল্প দ্রুত চালু এবং মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে শাখা ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত পূর্বনির্ধারিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠান চলাকালে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন দাবিদাওয়া তুলে ধরে মিছিল ও স্লোগান দিতে শুরু করেন। এতে অনুষ্ঠানস্থলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হলে তা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষে রূপ নেয়।
তার আগে সোমবার (৩ আগস্ট) রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে সেদিন রাত পৌনে ১১টা পর্যন্ত দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে ছিল। ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাসের মূল ফটক এবং ছাত্রদল পার্কের মোড় মসজিদে সামনে অবস্থান করছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দিনব্যাপী শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘জুলাই জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনী চলছিল। প্রদর্শনীতে ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ড (জুডিশিয়াল কিলিং)’ হিসেবে উল্লেখ করে কয়েকজনের ছবি প্রদর্শন করা হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা গিয়ে ব্যানারটি সরাতে বলে। এ নিয়ে প্রথমে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা দফায় দফায় লাঠিসোঁটা নিয়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, চেয়ার ছোড়াছুড়ি এবং হামলার ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।